
কলকাতা: তারাতলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬। পুরোদমে চলছে উদ্ধারকাজ। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, কার গাফিলতিতে এমন ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আঙুল উঠেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই দেখিয়েছেন যে তারাতলার ওই ভবন তৈরির প্ল্যানের অনুমোদনে সই রয়েছে ফিরহাদ হাকিমের। আর এবার তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তারপরই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা যখন মুখ্যমন্ত্রীর ‘স্ক্যানারে’। তখন কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলছেন, “কেন তাঁকে (ফিরহাদ হাকিমকে) গ্রেফতার করা হচ্ছে না?” এই প্রশ্ন অবশ্য শুধু শুভেন্দু অধিকারীর নয়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বলেছেন, “ওএসডি কালীচরণকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতার করা হবে না কেন?” এবার ফিরহাদের গ্রেফতারির জন্য কার্যত ডেডলাইন বেঁধে দিচ্ছেন কুণাল।
কুণাল ঘোষ বলেন, “কাগজ দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। তাহলে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না? যদি তারাতলা ফিরহাদ দোষী হন, তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে। আজ বিকেল ৫টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।” কুণাল আরও উল্লেখ করেছেন, শনিবার বিকেলে ঋতব্রতদের বৈঠক রয়েছে। বিধায়কের দাবি, সেখানে যদি ফিরহাদ হাকিম কাউন্সিলরদের নিয়ে যান, তাহলে বুঝতে হবে, তাঁকে গ্রেফতার করার কোনও সদিচ্ছা নেই।
কুণালের কথায়, “যদি দেখা যায় ফিরহাদ হাকিমকে দিয়ে কুনকী হাতীর কাজ করানো হচ্ছে, যাকে দিয়ে কাউন্সিলরদের ভাঙানো যায়, তাহলে বুঝব কোনও সদিচ্ছা নেই। আর যদি ফিরহাদ গ্রেফতার হন, তাহলে বুঝব, মুখ্যমন্ত্রী হৃদয় থেকে কথাটা বলেছিলেন।” অন্যদিকে, বিজেপি বলছে, “ডেডলাইন বেঁধে দেওয়ার উনি কে?”
শনিবার সকালে তারাতলা বিপর্যয়কাণ্ডে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং কাউন্সিলর সামস ইকবালের বিরুদ্ধে তারাতলা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেছে ভারতীয় জনতা মজদুর সেল।