
বারুইপুর: বারুইপুর কোর্টে তোলা হল সিপিএম নেতা তথা ছাব্বিশের নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী লাহেক আলি। সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। সোমবার বিকেলে বারুইপুর আদালতে ওঠে সেই মামলা। এ দিন, এই মামলায় কোর্টে সরকারি আইনজীবী ছিলেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, অভিযুক্তের পক্ষে ছিলেন দু’জন আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও রানা গঙ্গোপাধ্যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত চাওয়া হয়েছে, অন্যদিকে লাহেকের জামিন চেয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা। এ দিন আদালত ধৃতের আট দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে।
কোর্টে বিচারকের কাছে অভিযুক্তের পক্ষের আইনজীবীর সওয়াল, এই ঘটনায় তিনটে কেস আছে, সেগুলো আলাদা করে বিচারাধীন। ১২ তারিখ আবার নতুন করে চার নম্বর কেস দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, কে দোষী আর কে নয়। আগের দিন মামলা হল, পরের দিনই গ্রেফতার। একই সঙ্গে বিচারককে দেখতে বলা হয়, কোন অভিযোগ গ্রেফতার আর কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখার। লাহেকের আইনজীবীদের এও সওয়াল, বারুইপুরে ঘটনার পর লাহেক সোস্যাল মিডিয়া সরব হন। এরপর সব কিছু মিলিয়ে অভিযোগ করা হয়। ১১ তারিখ অভিযোগ হল আর ১২ তারিখ মামলা করে গ্রেফতার হল।
সরকারি আইনজীবীর পাল্টা সওয়াল, এই সব বক্তব্য ঠিক নয়। ওই মেয়েটিকে উদ্ধারের প্ররোচনা মূলক বক্তব্য রেখেছেন। দেখুন কী ধরনের বক্তব্য রেখেছেন। (ভিডিয়ো দেখানো হয়)। প্ররোচিত বক্তব্যের পর পুলিশকে মারা হল।
সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়েছি। এ প্রথম উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়। তারপরই গণপিটুনি। থানা পোড়ানো, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ইত্যদি ঘটেছে। বাড়ি থেকে বের করে এনে যে গণপিটুনি ঘটেছে তার জন্য উস্কানিমূলক মন্তব্য দায়ী। রেললাইন উপড়ে দেওয়া থেকে ঘর পোড়ানো বহু ঘটনা ঘটেছে। ওঁর উস্কানির জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে। কোর্টকে বলেছি আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য প্রমাণ রয়েছে।”
লাহেকের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ এখানে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে লাহেক আলিকে গ্রেফতার করেছে। লাহেক আলি ১০ তারিখ হাইকোর্টে মামলা করেছিল। ১১ তারিখ তার কপি বারুইপুর থানায় পৌঁছয়। ঠিক ১২ তারিখ কোনও একজন ব্যক্তিকে দিয়ে অভিযোগ করিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হল। তদন্তের নামে প্রহসন। আগের মতো একই কাজ করছে। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে আমি থামাচ্ছি ক্ষিপ্ত জনতাকে। অথচ ওঁর নামে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত চালু করলেন? তিনটে FIR করছেন। নতুন করে পুলিশে অভিযোগ করে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলেছে। জানে যে হাইকোর্টে কেসটা উঠলে নিরাপত্তা পেয়ে যেতে পারত। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা।”