TMC-Kamal Hossain: ‘সংখ্যালঘু বলে অবজ্ঞা, চাপ আসছে আমার ওপর’, তৃণমূল ছাড়লেন কামাল হোসেন

TMC-Kamal Hossain: বারবার তাঁর অফিসে নাকি এই অভিযোগ জানিয়ে ফোন আসে সংখ্যালঘু প্রার্থীদের। এই নিয়ে দলের সঙ্গে কথাও বলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেউ নাকি তাঁর কথা শোনেনি। মেসেজ করলে, কেউ তা পড়েও দেখেননি। কামাল বলেন, 'একে অবজ্ঞা ছাড়া আর কী বলব। আমার কথা যখন শোনা হচ্ছে না। তখন আমি আর থেকে কী করব।'

TMC-Kamal Hossain: সংখ্যালঘু বলে অবজ্ঞা, চাপ আসছে আমার ওপর, তৃণমূল ছাড়লেন কামাল হোসেন
কামাল হোসেনImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Feb 06, 2024 | 4:47 PM

কলকাতা: সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের কথা বারবার শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। বিরোধীরা ভোট ব্যাঙ্কের কথা বলে কটাক্ষ করলেও, তাতে গুরুত্ব দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আমলেই যে সব ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন হয়েছে, এ কথা বারবার জোর গলায় দাবি করেছেন মমতা। কিন্তু সেই ঘাসফুল শিবিরেই এবার বিদ্রোহের সুর সংখ্যালঘু নেতার গলায়। সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সরাসরি দল ছাড়ার কতা ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেতা তথা দলের অন্যতম মুখপাত্র কামাল হোসেন। সেই ঘোষণা করার আগে দলের বিরুদ্ধে উগরে দিলেন প্রবল ক্ষোভ। সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের কথা মেনে নিলেও ওই নেতার দাবি, বারবার অবজ্ঞার শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে। শোনা হচ্ছে না তাঁর কোনও কথাই।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মাদ্রাসা সার্ভিস নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, “আমিই একমাত্র বাঙালি সংখ্যালঘু মুখপাত্র। কিন্তু আমার কথাই শোনা হচ্ছে না। বিগত এক মাস ধরে আমি অনেক কষ্টে আছি।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সংখ্যালঘুদের তরফে চাপ আসছে, তাই তিনি আর তৃণমূলে থাকতে পারছেন না।

তাঁর দাবি, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নিয়ে যা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। তাঁর অভিযোগ, অ্যাডমিট কার্ড পরিবর্তন করার সুযোগ না দিয়েই শতাধিক প্রার্থীর কার্ড বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কেন পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হল না? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কামাল হোসেন। বারবার তাঁর অফিসে নাকি এই অভিযোগ জানিয়ে ফোন আসে সংখ্যালঘু প্রার্থীদের। এই নিয়ে দলের সঙ্গে কথাও বলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেউ নাকি তাঁর কথা শোনেনি। মেসেজ করলে, কেউ তা পড়েও দেখেননি। কামাল বলেন, ‘একে অবজ্ঞা ছাড়া আর কী বলব। আমার কথা যখন শোনা হচ্ছে না। তখন আমি আর থেকে কী করব।’

পেশায় শিক্ষক কামালের দাবি, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কেউ কথা বলছেন না, কিন্তু অন্য চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সংখ্যালঘুরা শিক্ষার আলো দেখেছেন ঠিকই, তবে চাকরি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।’ এমনকী আইএসএফ-এর প্রসঙ্গও শোনা গিয়েছে কামালের মুখে। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের একটা অংশ অসন্তুষ্ট বলেই আইএসএফ এত সহজে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে।

এই প্রসঙ্গে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিবেকের দংশন অনেক আগেই হওয়া দরকার ছিল। এতদিন পরে উনি বুঝতে পারছেন তৃণমূলের ভিতরে কী আর বাইরে কী।’ বিবেকের দংশনের কথা বলেছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে সবথেকে বেশি প্রতারিত হয়েছেন সংখ্যালঘুরা। আর তৃণমূল এই বিষয়ে কথা বলতে বিশেষ আগ্রহী নন। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার কথা থেকেই তা বোঝা গেল। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, ‘আমি কিছু জানি না।’

Follow Us