
কলকাতা: ভোটে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। মমতার (Mamata Banerjee) ডাকা বৈঠকে বিধায়করা যাচ্ছেন না। নিজের দলেরই বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পদত্যাগেরও হিড়িক পড়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে ৫০ জন বিধায়ক সই জমা দিতে চলেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে। এই আবহে রীতিমতো অস্বস্তি বাড়ছে তৃণমূল (TMC) অন্দরে। সেই অস্বস্তি আরও বাড়ালেন প্রয়াত তাপস পালের (Tapas Paul) স্ত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল (Nandini Paul)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। নন্দিনীর অভিযোগ, তাপস পালকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন মমতাই!
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে আক্রমণ করেন নন্দিনী। আসলে কুণালকেই উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী। ওই পোস্টে নন্দিনী লেখেন, “আপনাকে এক টিভি চ্যানেলে বলতে শুনলাম, ৭১ বছর বয়সী এক নেত্রীর প্রতি বিবেকবান হওয়া উচিত। আপনি এই কথাটি আপনার দলের কিছু বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলছিলেন বোধহয়। সত্যি বলতে কী, আপনাদের মুখে বারবার বিবেকের কথা শুনে আমার একটু অস্বস্তি, একটু অশান্তি লাগল। তাই কয়েকটা প্রশ্ন মনে এল।”
প্রশ্ন তুলতে গিয়েই নন্দিনী টেনে আনলেন ২০-২৫ বছর আগের কথা। যে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স ৫৫-৫৬। নন্দিনীর প্রশ্ন, তখন মমতার বিবেক কোথায় ছিল? যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেননি একবারও। লেখেন,”২০০১ সালে মানুষ কি একমাত্র তাঁর মুখ দেখেই তৃণমূলের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছিল? ২০০৬ সালেও যে কজন তৃণমূল প্রার্থী জিতেছিলেন, মানুষ কি শুধুমাত্র তাঁর মুখ দেখেই তাদের ভোট দিয়েছিল? ২০০৯ সালেও কি একমাত্র তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তাঁর দলের যে কজন প্রার্থী জিতেছিলেন, মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছিলেন?”
ঠিক এরপরই নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন। প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী লেখেন,”আর তখন, যখন তাপস পাল নামক একজন মানুষকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত কার্যত ছিবড়ে করে ফেলা হয়েছিল, এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁর সেই বিবেক কোথায় ছিল?” তাই কুণালকে তাঁর অনুরোধ, এবার একটু থামার প্রয়োজন রয়েছে। বারবার একই ধরনের যুক্তি শুনতে শুনতে তাঁর বিরক্ত লাগে।
আরও একটা প্রশ্ন তুলেছেন নন্দিনী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের রসায়ন কীভাবে হঠাৎ বদলে গেল? পোস্টে কুণালের উদ্দেশে প্রশ্ন,”তবে এটুকু জানতে চাই, সেইসময় আপনি এই নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেছিলেন, নানা অভিযোগও করেছিলেন। তারপর কী এমন ঘটল যে আজ আপনার সঙ্গে সেই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রসায়ন সম্পূর্ণ বদলে গেল?এটা কি মতাদর্শের পরিবর্তন? নাকি পরিস্থিতির প্রয়োজন? নাকি অন্য কোনও কারণ? সেই পরিবর্তনের গল্পটাই বরং শুনতে চাই। কারণ রাজনীতিতে অবস্থান বদলানো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে।”