
কলকাতা: সোমবার যন্তর মন্তরে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আন্দোলন প্রত্যাহার করার পর কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এরই মধ্যে শনিবার সন্ধেয় মমতাকে ফোন করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে সমর্থন জানানোয় তৃণমূল নেত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন। CJP আন্দোলন প্রত্যাহার করায় মমতা আর সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন না।
যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে শনিবার সকালে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কালীঘাট তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “যেহেতু দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। ইতিমধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। যাঁরা ওখানে আন্দোলন করছিলেন, দিদির সেই আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন রয়েছে ও যোগাযোগ রয়েছে। মন্ত্রী ইস্তফা দিয়ে দেওয়ায় আপাতত দিদি দিল্লি যাত্রা স্থগিত করেছেন। কিন্তু সবার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।”
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকে সমর্থন করে একুশে জুলাইয়ে মঞ্চ থেকে মমতা জানিয়েছিলেন, যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে তিনি যোগ দেবেন। পরে জানা যায়, তিনি সোমবার যন্তর মন্তরে ধরনায় সামিল হবেন। শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর মমতার দিল্লি যাত্রা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেছিলেন, “এখনও জানি না। ওঁর সোমবার দিল্লি আসার কথা ছিল। কথা হয়নি পুরো বিষয়টি নিয়ে।”
গতকাল বিকেল পর্যন্ত মমতাও তাঁর দিল্লি যাত্রা নিয়ে কিছু বলেননি। পদ্মপুকুরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অবস্থানে হাজির হয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি এই দেশের ভাই-বোনদের সম্মান করি। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীদেরও তো পরিবারে সন্তান রয়েছে, তাঁদেরও অনেকে এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে।” এমনকি, স্কুটির পিছনে চেপে পদ্মপুকুর থেকে কালীঘাটের বাড়ি যাওয়ার পথে ‘স্টুডেন্টস ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানেও গলা মেলাতে দেখা যায় তাঁকে। অবশেষে সন্ধেয় CJP প্রধান অভিজিৎ দিপকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান মমতাকে। তারপরই জানা যায়, আপাতত দিল্লি যাত্রা স্থগিত রাখছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী।