
অধীর রায়, কলকাতা: প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে তৃণমূলের (Trinamool Congress) দুই শিবিরের মধ্যে। দু পক্ষই কাগজপত্র জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দফতরে, কিন্তু সুরাহা হয়নি এখনও। এদিকে, উপ নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসছে। তিনটি বিধানসভা ও একটি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। প্রশ্ন উঠছে, উপ নির্বাচনের আগে প্রতীক ইস্যুর মীমাংসা না হলে কে কোন প্রতীকে লড়বেন? ঘাসফুলে কি লড়তে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
সম্প্রতি প্রতীক হারানোর আশঙ্কার কথা একাধিকবার শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও। তিনি বারবার বলেছেন, প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা নেই , তবু যদি প্রতীক হাতছাড়া হয়, তাহলে নতুন প্রতীকে লড়বেন। প্রতীক চেনাতে প্রয়োজন হলে গলায় ঝুলিয়ে ঘুরবেন, এমন মন্তব্যও করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, একসময় যখন তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর ঘাসফুলের প্রতীক চেনানোর আগেই ভোট হয়েছিল। এবারও প্রতীক চেনাতে তাঁর কোনও অসুবিধা হবে না বলেই মন্তব্য করেছেন।
সূত্রের খবর, ঘাসফুল বা জোড়াফুল প্রতীক যদি হাতছাড়া হয়, সে ক্ষেত্রে ‘প্ল্যান বি’ তৈরি আছে মমতার। জানা যাচ্ছে, ঘাসফুলের বদলে সূর্যমুখী ফুল প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন তিনি। ওই প্রতীকেই লড়তে পারেন উপ নির্বাচনে। রেজিনগর, নন্দীগ্রাম বিধানসভা ও বসিরহাট লোকসভায় উপ নির্বাচন হবে।
তবে প্রতীক নিয়ে ঋতব্রত-শিবির কী ভাবছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই শিবিরের অন্যতম বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে জানান, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের উপরেই ভরসা রাখছেন। সব নথি খতিয়ে দেখে, আইনি পথে কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই তাঁরা মেনে নেবেন। প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয় কোনও ভাবনা এখনও পর্যন্ত তাঁদের নেই। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন,
“অফিস নেই, অ্যাকাউন্ট নেই। ফুল নিয়ে কী করবেন! স্টেটমেন্ট নিয়ে যা করার করবেন।”