Mamata Banerjee: ঋতব্রতদের যাওয়ার আগেই কমিশনকে তড়িঘড়ি চিঠি মমতার

Mamata Banerjee sent letter to Election Commission: দলের জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা নিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা। অর্থাৎ মমতা-পন্থী তৃণমূলের কর্মসমিতিতে কারা রয়েছেন, সেই তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকায় ২৪ জনের নাম রয়েছে। সেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতার নাম, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অথচ, এই অভিষেককেই গতকাল বহিষ্কার করেছিল ঋতব্রতদের তৃণমূল।

Mamata Banerjee: ঋতব্রতদের যাওয়ার আগেই কমিশনকে তড়িঘড়ি চিঠি মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit source: PTI

Jun 23, 2026 | 2:51 PM

কলকাতা: তৃণমূলের রাশ কার হাতে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee)। এই নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সোমবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল নতুন ‘জাতীয় কর্মসমিতি’ গঠন করেছে। অথচ সেখানে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তার বদলে চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে (Arup Roy)। বহিষ্কার করা হয়েছে অভিষেককে । সূত্রের খবর, আজই এই নতুন সমিতি সংক্রান্ত সব নথিপত্র কমিশনে জমা দিতে যাওয়ার কথা ছিল ঋতব্রতদের। কিন্তু, তার আগেই ময়দানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতদের আগেই নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো (Mamata Banerjee sent letter to Election Commission)।

কমিশনকে কী চিঠি দিয়েছেন মমতা?

দলের জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা নিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা। অর্থাৎ মমতা-পন্থী তৃণমূলের কর্মসমিতিতে কারা রয়েছেন, সেই তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকায় ২৪ জনের নাম রয়েছে বলে খবর। সেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতার নাম, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রসঙ্গত,  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই গতকাল বহিষ্কার করেছিল ঋতব্রতদের তৃণমূল।

এছাড়া মমতার পাঠানো চিঠিতে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দোলা, ডেরেকের নাম যেমন রয়েছে, তেমনই সহ সভাপতি হিসেবে সুব্রত বক্সী, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে শুভাশিসের নামও রয়েছে। নাম রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়েরও। তাঁর পাশে লেখা রয়েছে Leader of Assembly অর্থাৎ বিধানসভার দলনেতা। বিরোধী দলনেতা বলা হয়নি। অন্যদিকে, নাম রয়েছে ডেরেক ও ব্রায়েন, মদন মিত্র-সহ বাকি নেতাদের। রাজনৈতিক মহল বলছে, ঋতব্রতদের আগে কমিশনকে তড়িঘড়ি চিঠি পাঠিয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকল মমতাপন্থী তৃণমূল।

মমতা নাকি ঋতব্রত, কার হাতে থাকবে দলের রাশ? কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র জানিয়েছেন, এটা ভবিষ্যতের বিষয়। একটা সংবিধান রয়েছে, আইন রয়েছ। তবে, এমনও কিছু বিষয় রয়েছে, যা অনেক সময় আইনে বলা থাকে না। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে গোটা যে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, তাতে আপাতত একটা ক্ষমতা দখলের লড়াই। একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে কীভাবে তাঁরা ক্ষমতা নেবেন, সেই ক্ষমতার কিছু অংশ রয়েছে। যেমন, সাধারণ তৃণমূল ভোটার, তাঁরা কোন দিকে যাবেন, তার সঙ্গে দলের নাম, প্রতীকের কোনও সম্পর্ক নেই। যে বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তা কোর্টের বিচার্য বিষয়। আর একটা দিক, যেখানে, তৃণমূল ভোটাররা কাকে সমর্থন করবেন মমতা নাকি ঋতব্রতকে, সেটাও দেখার বিষয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোনও নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত জনমত কোন দিকে তা বোঝা যাবে না।

উল্লেখ্য, সংসদীয় রাজনীতিতেও ঠিক একই ছবি দেখা গিয়েছিল। বিদ্রোহী সাংসদরা স্পিকারের কাছে যাওয়ার আগেই পৌঁছে দিয়েছিলেন তৃণমূলপন্থী দুই সাংসদ কীর্তি আজ়াদ ও সাগরিকা ঘোষ। স্পিকারকে চিঠি দেন তাঁরা। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, সব ক্ষেত্রেই  ‘আইনি’ পথেই এগোতে দেখা গিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূলের।

Follow Us