
হাওড়া: হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) ও সংলগ্ন এলাকায় জল জমে থাকার সমস্যা মোকাবিলায় নিকাশি ব্যবস্থার বড়সড় সংস্কার। উদ্যোগ নিল পূর্ব রেল ও হাওড়া পুরনিগম। ভারী বৃষ্টির সময় যাতে দ্রুত জল বের করা যায়, পাম্পিং ক্ষমতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিকাশি পরিকাঠামো গড়ে তুলতে দুই সংস্থার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডের নির্দেশে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর, হাওড়া পুরনিগমের কমিশনার তেজস্বী রানা-সহ রেল, পুরসভা, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার আধিকারিকরা।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় হাওড়া স্টেশন ও রেল চত্বরে পুরসভা এলাকার জল ঢুকে পড়ার বিষয়টি। পাশাপাশি লিমিটেড হাইট সাবওয়ে বা LHS-এ জল জমা, বিভিন্ন নিকাশি লাইনে বাধা এবং ভারী বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত জল দ্রুত বের করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়।
সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রেল ও পুর প্রশাসনের আধিকারিকরা যৌথভাবে বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। কোথা থেকে জল আসছে, কোন পথে প্রবাহিত হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় জল বেরিয়ে যাচ্ছে, সেই পুরো নিকাশি ব্যবস্থার প্রবাহপথ চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজনে নিকাশি লাইনের শেষ প্রান্ত অর্থাৎ হুগলি নদীর সম্ভাব্য ‘আউটফল’ পর্যন্ত পর্যালোচনা করা হবে।
ময়নাকপাড়া ও গোলাবাড়ির পাম্পিং স্টেশনগুলির কার্যকারিতা এবং পাম্পিং ক্ষমতাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পাম্প বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই হাওড়া ডিভিশনের তরফে অনলাইন স্বয়ংক্রিয় পাম্পিং মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাম্পের কার্যকারিতা এবং জলস্তর রিয়েল-টাইমে নজরদারি করা সম্ভব।
রানি ঝিল, বামনগাছি এবং লিলুয়া সংলগ্ন এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। কোনা মোড়ের দিকে নিকাশি সংযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং হুগলি নদীর দিকে উপযুক্ত আউটফল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে হাওড়া পুরনিগম, KMDA ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
অতিরিক্ত জল সাময়িকভাবে ধরে রাখতে পুকুর ও ঝিল ব্যবহারের সম্ভাবনা, জল বেরনোর জায়গাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং নিকাশি নালা নিয়মিত পরিষ্কারের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। কারশেড এলাকা-সহ বালি, ডবসন রোড, চার্চ রোড, দশরথ ঘোষ লেন, চাঁদমারি ব্রিজ এবং টিকিয়াপাড়ার নিকাশি সমস্যা নিয়েও বৈঠকে আলোচনায় আসে। নালায় বর্জ্য জমে যাতে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সমন্বিত পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, রেল ও পুর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভারী বৃষ্টির সময় হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রেলযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দা—উভয়েই দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।