Mirza Ghalib Street hotel fire: অগ্নিকাণ্ডের জের! আজ থেকে শহরের বুকে শুরু হচ্ছে যৌথ তদন্ত কমিটির বিশেষ অভিযান

Mirza Ghalib Street hotel fire: কলকাতা শহরে বাণিজ্যিক আবাসন, হোটেল, বাজার-সহ যেখানে নিয়মিত বহু মানুষের জমায়েত হয়, সেই সমস্ত জায়গায় এবার শুরু হচ্ছে বিশেষ নজরদারি।কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোতে পৃথক পৃথক যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে নামছে এই কমিটিগুলি।

Mirza Ghalib Street hotel fire: অগ্নিকাণ্ডের জের! আজ থেকে শহরের বুকে শুরু হচ্ছে যৌথ তদন্ত কমিটির বিশেষ অভিযান
অভিযান চালাবে বিশেষ তদন্ত কমিটি Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Aug 20, 2026 | 10:16 AM

কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তৎপর প্রশাসন। আবাসিক ভবনে কীভাবে হোটেল? কীভাবেই মিলল ট্রেড লাইসেন্স? দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বুধবারই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। শহরের বুকে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হোটেলগুলির বিরুদ্ধে এবার অভিযানে প্রশাসন। লাইসেন্স বিভাগকে যুক্ত করে ১৬টি বরোতে যৌথ তদন্ত কমিটি অভিযান শুরু করবে। বৃহস্পতিবার থেকে হোটেল-বাজারে সরেজমিনে নজরদারি চালানো হবে।

কলকাতা শহরে বাণিজ্যিক আবাসন, হোটেল, বাজার-সহ যেখানে নিয়মিত বহু মানুষের জমায়েত হয়, সেই সমস্ত জায়গায় এবার শুরু হচ্ছে বিশেষ নজরদারি।কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোতে পৃথক পৃথক যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে নামছে এই কমিটিগুলি।

এই যৌথ কমিটিতে রয়েছে কলকাতা পুরসভা, দমকল, কলকাতা পুলিশ, কেএমডিএ এবং সিইএসসি। পাশাপাশি এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স বিভাগকেও কমিটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা ঘটনাস্থলেই যাচাই করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনে মূলত যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে

১. পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা: হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বৈধ Fire Safety Certificate/NOC রয়েছে কি না।

২. অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা: অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা কার্যকর এবং পর্যাপ্ত কি না।

৩. ফায়ার এলার্ম এবং স্প্রিং কলার: ফায়ার অ্যালার্ম,  স্প্রিং কলার ও অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রয়েছে কি না।

৪. জরুরিকালীন দরজা:  জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত এমার্জেন্সি এক্সিট রয়েছে কি না।

৫. সিঁড়ি ও বেরোনোর পথ: সিঁড়ি, করিডর এবং বেরোনোর পথ নিরাপদ ও বাধামুক্ত কি না।

৬. বেআইনি নির্মাণ: অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনও বেআইনি নির্মাণ বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না।

৭. দাহ্য সামগ্রী: এমন কোনও জায়গায় দাহ্য সামগ্রী রাখা হয়েছে কি না, যেখান থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৮. প্রয়োজনীয় নথি: পুরসভা ও দমকলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্র সঠিক রয়েছে কি না।

৯. লাইসেন্স: সংশ্লিষ্ট হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বৈধ পুরসভা লাইসেন্স রয়েছে কি না।

১০. বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন: আবাসিক ভবন বা অন্য কোনও কাঠামো নিয়ম মেনে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।

১১. জননিরাপত্তা: অতিরিক্ত মানুষের জমায়েত হলে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না।

১২. লাইসেন্স বিভাগকে যুক্ত করাই এবার বড় সংযোজন।

তদন্তকারীদের হাতে ঘটনাস্থলেই কোনও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই পুরসভার লাইসেন্স বিভাগকে এই যৌথ তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু অগ্নিনিরাপত্তা নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি আদৌ বৈধভাবে ব্যবসা করছে কি না এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। ১৬টি বরো জুড়ে এই পরিদর্শনের মাধ্যমে কোথায় কোথায় অগ্নিনিরাপত্তা বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে, সেই চিত্রই এবার পুরসভার সামনে আসতে চলেছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us