Governor C V Anand Bose: বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, মমতা বললেন, ‘আগেও অনেক বার শুনেছি’

Governor C V Anand Bose: ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে হেয়ারস্ট্রিট থানায়। পাল্টা রাজভবনের তরফে প্রেস বিবৃতি দিয়ে রাজভবন চত্বরের পুলিশের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রাজ্যপালের তরফে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। 

Governor C V Anand Bose: বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, মমতা বললেন, আগেও অনেক বার শুনেছি
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসImage Credit source: twitter

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

May 03, 2024 | 3:46 PM

কলকাতা: রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এখন তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। সঠিক তদন্তের দাবিতে সুর চড়িয়েছে শাসকশিবির। শাসকমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা তো বটেই, সুর চড়িয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রায়নার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “হাজারটা ঘটনা আগে আমি শুনেছি, কিন্তু কিছু বলিনি। কালকে মেয়েটার কান্না সহ্য করতে পারিনি।” ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে হেয়ারস্ট্রিট থানায়। পাল্টা রাজভবনের তরফে প্রেস বিবৃতি দিয়ে রাজভবন চত্বরের পুলিশের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রাজ্যপালের তরফে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে? 

অভিযোগকারিনী রাজভবনেরই এক মহিলা অস্থায়ী কর্মী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই মহিলা কর্মী হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কলকাতা পুলিশের বক্তব্য, ওই মহিলা অভিযোগে জানিয়েছেন, রাজ্যপাল তাঁকে একবার নয়, দু’বার শ্লীলতাহানি করেছেন। তিনি রাজভবনে স্থায়ী কর্মী হতে চেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে কবে কখন কী হয়েছে, তা বিস্তারিত ভাবে পুলিশকে বলেছেন।

বৃহস্পতিবার ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটা নাগাদ রাজভবনের আউটপোস্টে এক মহিলার অভিযোগ এসেছে। ওই মহিলা রাজভবনের কর্মী। তিনি শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি সংবেদনশীল। আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের  পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। ” এই সাংবাদিক বৈঠকের পরই বঙ্গ রাজনীতিতে ঝড় ওঠে।  সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। শুক্রবার মুখ খোলেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। রায়নার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী তোপ দাগেন, এর আগেও তিনি এই ধরনের একাধিক অভিযোগ শুনেছেন। কিন্তু কিছু বলেননি।

রাজভবনের বক্তব্য

এরপরই রাজভবনের তরফ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। রাজ্যপালের সম্মানহানি এবং অসাংবিধানিক বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে রাজভবনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। বিবৃতিতে বলা হয়, কলকাতা, দার্জিলিং এবং ব্যারাকপুরের রাজভবনে ঢুকতে পারবেন না। এমনকি তিনি কোনও অনুষ্ঠানে গেলে, সেখানে থাকবেন না রাজ্যপাল। পাশাপাশি রাজভবন চত্বরে পুলিশের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রাজ্যপালের অভিযোগ, পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাজ্যপালের বক্তব্য

ঘটনার পরই রাজ্যপাল বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ভোটের বাংলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। সত্য সামনে আসবে।”

কলকাতা ছাড়লেন রাজ্যপাল

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। যে দিন বিকালে ‘ঝড়’ ওঠে, সেই রাতেই রাজভবনে থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার বাংলায় তাঁর তিনটি সভা রয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১২ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রী রাজভবন থেকে বেরিয়ে বর্ধমানে প্রথম সভার উদ্দেশে রওনা দেন। আর তার মিনিট পনেরোর মধ্যেই রাজভবন থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় রাজ্যপালকে। রাজভবন সূত্রে খবর, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তিনি কোচি যাচ্ছেন।

সর্বশেষ আপডেট

রাজ্যপাল রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের তরফে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। কী করণীয়, সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

Follow Us