
কলকাতা: ঘরের মেঝেতে পুরু ধুলোর স্তর। তার ওপর পায়ের ছাপ। সে ছাপ নির্দিষ্ট একটা দিকে গিয়ে শেষ হয়েছে। আর তাতেই বাড়ছে রহস্য। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলার সমস্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ইউনিয়ন রুমগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। নতুন সরকার নির্দেশ দেওয়ার পর নিউ বারাকপুরের APC কলেজের ইউনিয়ন রুমের দরজার তালা খোলা হয়। ইলেক্ট্রিক কাটার মেশিন দিয়ে কাটা হয় তালা। ভিতর ঢুকলেই চক্ষু চড়কগাছ। রুমের ভিতরে পুরু হয়ে পড়ে থাকা ধূলোর স্তর। আর সেখানে পায়ের ছাপ।
ঘরের কোণায় পড়ে গর্ভনিরোধ! এর আগেও কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে গর্ভনিরোধ উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে অভিযোগ, গর্ভনিরোধ ব্যবহৃত। শুধু তাই নয়, পড়ে রয়েছে ব্যবহৃত গর্ভনিরোধক ওষুধের প্যাকেট। কলেজের ইউনিয়ন রুমে TMCP নেতাদের আবারও ফূর্তির ছবি ধরা পড়ল!
একটা-দুটো নয়। সূত্রের খবর, ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হয়েছে ব্যবহৃত গর্ভনিরোধ পাহাড়। একই সঙ্গে দেখতে পাওয়া গিয়েছে, TMCP পতাকার পাশে পড়ে রয়েছে গর্ভনিরোধের বাক্স। কিন্তু সবথেকে বেশি, এই পায়ের ছাপ ঘিয়েই বাড়চ্ছে রহস্য। আরও কি কিছু পড়েছিল কলেজের ইউনিয়ন রুমে? তাহলে কি কয়েকদিন আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে কিছু? সেই প্রশ্ন উঠছে।
গোটা ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল। এ বিষয়ে পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “এর থেকে ভাল কী আর পাওয়া যাবে? তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই ওরকম। এসব হয়েছে বলেই তো উচ্ছন্নে গিয়েছে। আমি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসেছি। আমি জীবনে কোনওদিন শুনিনি ইউনিয়ন রুমে বেড রুম থাকতে পারে!”
অন্যদিকে, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “শিক্ষাঙ্গন ছিল ফূর্তি করার জায়গা। শিক্ষামন্ত্রী তো নাকে তেল দিয়ে ঘুমোতেন। কিছুই জানতেন না।”