
কলকাতা: নতুন নাম প্রতীক পেয়েও তীব্র অস্বস্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। আচমকা ময়দানে PWD-র টেন্টে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন সঞ্চিতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, জোড়া ফুল প্রতীক, দলের নাম হারানোর পর কি মমতা তবে প্রার্থীও হারাতে চলেছেন? ৬ তারিখ উপনির্বাচনে আগে নন্দীগ্রামে বড় ট্যুইস্ট।
জানা যাচ্ছে, শুক্রবার দুপুরে স্বামী সত্যজিৎ প্রধানকে নিয়ে নবান্নে যান সঞ্চিতা প্রধান দে। এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন রয়েছে আগামিকাল অর্থাৎ শনিবার। ঠিক তার আগেই সঞ্চিতার এভাবে শুভেন্দু-সাক্ষাৎ রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দিন কয়েক আগেই নন্দীগ্রামের তাবড় নেতা আবু তাহের বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। কারণ তিনি আর প্রার্থী হতে চান না। কারণ সুদিনের সময়ে তিনি কাজ করেছেন, আজ দুর্দিনে তাঁকে কেন প্রার্থী করা হচ্ছে, তাই নিজে থেকে তিনি আর প্রার্থী হতে চান না। তবে এটাও বলেছিলেন, যদি মমতা চান, তাহলে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। আবু তাহেরের সুর নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়। এখনও যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় রয়েছে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে তিনি কি আর লড়বেন না? শেষ মুহূর্তে নন্দীগ্রামে কি আর প্রার্থী খুঁজে পাবেন মমতা? ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা করে দিয়েছে মমতা শিবির। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা শিবিরের মনোবলে আরও একবার ধাক্কা লাগল। কারণ ইতিমধ্যেই কমিশনের অন্তবর্তী নির্দেশে জোড়া ফুল প্রতীক ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামটিও হারাতে হয়েছে মমতা শিবিরকে। ফুটবলার প্রতীকে লড়বে মমতা আর নতুন দলের নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’।
সঞ্চিতার তো কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দরজা তো সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কোনও কাজেই যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এটাকে অন্য ভাবে কেন দেখা হচ্ছে? ”
মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বললেন, “তাঁকে সম্মান দিয়ে নন্দীগ্রামের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হাসিমুখেই তা গ্রহণ করেছিলেন। কৃতজ্ঞও হয়েছিলেন। তারপর কেন দেখা করলেন? কেন মমতাদির সম্মানকে অবহেলায় সরিয়ে দিলেন, বলতে পারব না।”