
হাওড়া: তৃণমূলের (Trinamoon Congress) ২০ জন সাংসদের শিবির এনসিপিআই (NCPI) নামে এক দলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে রবিবারই। দলটি নতুন নয়, তবে কতজন এই দলের নাম শুনেছেন, তা হয়ত হাতে গুনে বলা যাবে। কী এই এনসিপিআই (NCPI)? কোথায় অফিস? কতজন সদস্য? তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যে ঠিকানায় এই এনসিপিআই-এর মূল কার্যালয় রয়েছে, সেখানেও বাড়ছে উৎসাহী জনতার ভিড়। কিন্তু দেখা পাওয়া গেল না কারও।
ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-র সেই কার্যালয়টি রয়েছে হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের হাটগাছা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই এনসিপিআই-এর নাম রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসায় এলাকার বাসিন্দাদেরও কৌতূহল বেড়েছে।
ত্রিপুরায় আত্মপ্রকাশ করা এই রাজনৈতিক দলের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন সাঁকরাইলের হাটগাছা এলাকার বাসিন্দা শিউলি কুণ্ডু। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, পেশায় আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালনা করেন এবং তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও সেই কাজে সহযোগিতা করতেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ঝোড়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি গ্রামসভা আসনে এনসিপিআই প্রার্থী দেওয়ার পর প্রথমবার তারা এই রাজনৈতিক দলের নাম জানতে পারেন। ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় অনেক জায়গায় প্রার্থী দিয়েছিল এই দল। তাদের প্রতীক ছিল দোয়াত-কালি। এরপর লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় দলটিকে খুব একটা সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রচারে দেখা যায়নি।
রবিবার থেকেই হাটগাছার কার্যালয়ের সামনে বহু মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। তবে অফিসে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। শিউলি কুণ্ডুর মেয়ে বেরিয়ে জানান, তাঁর বাবা ও মা এই অফিসটি চালান। তবে ঠিক কী কাজ হয়, তা কেউই বলতে পারেননি। অনেকে বলছেন, সমাজসেবামূলক কাজ হয়। আশপাশের দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করেন এই দম্পতি।
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কার্যালয়ের সামনে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।