
কলকাতা: ‘রাজনীতিটাই জটিলতা। প্রতিদিন জটিলতার মধ্যে দিয়ে চলছি।’ কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা করার পর এমনটাই বললেন দুই এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ আবু তাহের (Abu Taher) ও খলিলুর রহমান। এনসিপিআই এনডিএ-র শরিক হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেও তিন সংখ্যালঘু সাংসদের অবস্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবার নবান্নে বসে আবু তাহের স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠকে তাঁরা যাবেন না।
আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের মধ্যে এই তিনজনকে নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। যে সংসদীয় কেন্দ্র থেকে এই তিনজন ভোটে জিতে সংসদে গিয়েছেন, সেখানে অনেক সংখ্যালঘু ভোটার আছে। ফলে, এই সাংসদরা বিজেপিতে যোগ দিলে, সেই ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই এনডিএ-র শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে। এনডিএ-র কোনও বৈঠকেও যাননি এই তিন সাংসদ। তবে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা।
পূর্ব নির্ধারিত সূচী মেনেই শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। পরে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা জানান, রাজ্য় তথা তাঁদের কেন্দ্রের নানা সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সমস্যার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন শুভেন্দুর কাছে। সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার আবু তাহের ও খলিলুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠক হলে তাঁরা যাবেন না। এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে কোনও বৈঠকে ডাকা হলে তাঁরা যাবেন। অন্যান্য সাংসদরা যখন মোদীর নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজ করার বার্তা দিচ্ছেন, তখন আবু তাহেরদের বক্তব্য, “কে কী বলছে বলতে পারব না। কাগজে কলমে এনসিপিআই কারও শরিক নয়। নামের পাশে এখনও এআইটিসি (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস) লেখা থাকে, তৃণমূলের নেতা হিসেবে মিটিং-এ ডাকা হচ্ছে।” তবে ভবিষ্যতে কী করবেন, তা ভবিষ্যতেই জানাতে চান তাঁরা।
আবু তাহের বলেন, “রাজনীতিটাই জটিলতা। প্রতিদিন জটিলতার মধ্যে দিয়ে চলছি। এটা তো থাকবেই। কাটিয়ে ওঠার কাজটাই আমাদের।”