
কলকাতা: টাকা দিলেই মেলে বিএড (B.Ed) ডিগ্রি। আবার কোনও কোনও বিএড কলেজের ঠিকানায় পৌঁছে দেখা যায়, সেটা আদতে ফ্ল্য়াটের ড্রয়িং রুম। কোনও কোনও ঠিকানায় তো সেটাও নেই। হয়ত চোখে পড়বে তালা ঝোলানো একটি ভবন! পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নেমে তাজ্জব শিক্ষা দফতর। আগাছার মতো গজিয়ে ওঠা বিএড কলেজের বাস্তব ছবি তথা পরিসংখ্যান সামনে এনেছে সরকার। কড়া পদক্ষেপ করেছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্য়ায়।
রাজ্যের বিএড কলেজগুলিতে শিক্ষা ব্যবস্থার নামে চরম অরাজকতা ও ডিগ্রি বিক্রির চক্র চলছে বলে সরব হয়েছেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নেমে রাজ্য জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ও পরিকাঠামোহীন বিএড প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৪৫০-এর বেশি বিএড কলেজকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিস পাঠানো হয়েছে।
১০০ নম্বরের নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্সে পরিকাঠামো ও পাঠদানের মান পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, কলেজগুলির প্রাপ্ত গড় নম্বর মাত্র ৫১.৫ শতাংশ।
অস্তিত্বহীন ৫৩টি কলেজ: পরিদর্শকেরা নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে দেখেছেন ৫৩টি বিএড কলেজের কোনও বাস্তব অস্তিত্বই নেই। হয় সেখানে অন্য কাজ চলছে, না হয় বাড়ি বন্ধ।
ফ্ল্য়াটের ঠিকানায় কলেজ: ১৭টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ফ্ল্যাট বা ড্রয়িং রুমের ঠিকানায় বিএড কলেজের এনওসি দেওয়া রয়েছে। কেবল সাইনবোর্ড বদলে একই ভবনে বিএড, পলিটেকনিক ও ফার্মাসি কলেজ চালানোর ‘অভিনয়’ চলছে।
অচল ২৬৫টি প্রতিষ্ঠান: ১১৪টি কলেজ ১০০-র মধ্যে ৩০-এর কম নম্বর পেয়েছে। ভুয়ো ও অযোগ্য মিলিয়ে মোট ২৬৫টি কলেজকে পুরোপুরি ‘অচল’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১২১টি কলেজের পরিকাঠামো অত্যন্ত সঙ্গিন।
সন্তোষজনক পারফরম্যান্স: মাত্র ১৫১টি কলেজ ৬৫ থেকে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, শিক্ষকের উপস্থিতি ও সঠিক পরিকাঠামো বজায় রাখতে পেরেছে।