
কলকাতা: বর্ষা মানেই ডেঙ্গি আতঙ্ক। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পরিসংখ্যান যা বলছে, তাতে ডেঙ্গিকে আর অবহেলা করার সময় নেই। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ১০ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শয়ে শয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। গত সাত দিনে ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৮০০ জন। তার মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পরিসংখ্যান: ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৮৭ জন। ২০২৬ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গিতে আক্রান্ত ৩২৭ জন।
উদ্বেগ কোথায়: প্রতি বছর পূর্ববর্তী বছরের সঙ্গে যখন পরিসংখ্যান মেলানো হয়, তখন দেখা যায় আগের বছর থেকে অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ কম ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়। কিন্তু এবার সেখানে মাত্র ১৫ শতাংশ কম।
ডেঙ্গির ঝুঁকি-সূচক: ৩০ অগস্টের একটি স্বাস্থ্য-ঝুঁকি সূচকে কলকাতায় ডেঙ্গির ঝুঁকি ৩৯/১০০, অর্থাৎ মাঝারি হিসাবে দেখানো হয়েছে। এটি আক্রান্তের সংখ্যা নয। ৩৯/১০০ পরিসংখ্যানটি সরকারি ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নয়; এটি একটি স্বাস্থ্য-ঝুঁকি সূচক।
ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিও রয়েছে: একই সূচকে কলকাতায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি ডেঙ্গির তুলনায় বেশি দেখানো হয়েছে।
মৃত্যুর সংখ্যা: ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত মোট ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে ১০জন আক্রান্তের। তবে ডেথ রিভিউ কমিটির মতে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। বাকি ৩ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর কারণ অন্য, ডেঙ্গি নয়। ২০২৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের, ২০২৪-এ মৃত্যু হয়েছিল ৩১ জনের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও বিশেষ নজর রেখেছেন এই বিষয়ে। তাঁর মতে, সৌন্দর্যায়নের নামে জায়গায় জায়গায় পদ্ম পুল বানানো বন্ধ হোক। তিনি বলেন, “কোনও দিন একটা পদ্ম ফুটতে দেখিনি। একটা মাছ ঘুরে বেড়াতেও দেখিনি। তৈরি হয়ে যায়, তারপর রক্ষণাবেক্ষণ হয় না ঠিক মতো।” কেএমসির মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসের বক্তব্য, এখনও হাতের বাইরে যায়নি পরিস্থিতি। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।