
কলকাতা: সভাঘরে উপস্থিত নেতা-মন্ত্রীরা। বসে আছেন ববি হাকিম, সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ। সংবাদমাধ্যমে চলছে ‘লাইভ টেলিকাস্ট’। সেই বৈঠকে কোনও রাখঢাক না করে একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় একের পর এক মন্তব্য করলেন মমতা। ধরে ধরে ভর্ৎসনা করলেন চেয়ারম্যান থেকে পুর আধিকারিকদের। নেতাদের কথায় পুলিশ বেআইনি কাজ করছে, এমন অভিযোগও তুলে দিলেন খোদ মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে যেন বিরোধীদেরই কথা। তবে বিরোধীরা কিন্তু অন্য তত্ত্ব দেখছেন।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, ‘উনি তো নিজেই স্বীকার করে নিলেন যে দল টাকা তোলে।’ সেই সঙ্গে সজলের প্রশ্ন, যারা টাকা তোলে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি কী পদক্ষেপ করলেন? মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে সজল বলেন, “যাদের পেট মোটা হয়ে গিয়েছে, তারা কি টাকা তোলা বন্ধ করে দেবে? নাকি টাকা তুলছে, কিন্তু সেটা পৌঁছে দিচ্ছে না বলে মুখ্যমন্ত্রীর রাগ হচ্ছে?”
মমতা যে পুলিশকে তুলোধনা করেছেন, সেই প্রসঙ্গে সজল বলেন, “পুলিশকে তুলোধনা না করে তো আয়নার সামনে দাঁড়াতে পারেন। একজন মন্ত্রীকে কেন ১২ বছর বাদে পুলিশকে তুলোধনা করতে হয়! তার মানে তিনি পুলিশকে চালাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ, সেটা তো ১২ বছর বাদে তুলোধনা করতে গিয়ে নিজেই বলছেন।” উল্লেখ্য, পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পুলিশ যে শাসক দলের কথায় ওঠে-বসে এই অভিযোগ বারবার তুলেছেন বিজেপি নেতারা। মমতার এই ভর্ৎসনায় সজলের মন্তব্য, ‘উনি নাটক করছেন, লোক দেখাচ্ছেন, সাধু সাজছেন।’
অন্যদিকে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দলের লোকদের ডেকেছেন। এটা কোনও সরকারি বৈঠক হতে পারে না, কারণ বিরোধীদের পুরসভার কেউ ছিলেন না।’ তাঁর কথায়, লুঠ হবে এবং পরিষেবা থাকবে, দুটি একসঙ্গে চলতে পারে নাকি। উনি চান্স পেয়েছেন, সবাইকে তুলোধনা করেছেন। পুলিশ থেকে শুরু করে মন্ত্রী-বিধায়ক সবাইকে তুলোধনা করেছেন।