
কলকাতা: আরও একটা অগস্ট মাস চলে এল। তিলোত্তমা চলে গিয়েছেন এই অগস্ট মাসেই। আরজি করের সেই ভয়াবহ ঘটনা এখনও মনে দাগ কেটে রয়েছে সকলের। এখনও মেয়ের বিচারের আশায় রয়েছে পরিবার। দু’টো বছর ঘুরেছে। এর মধ্যে নদী থেকে বয়ে গিয়েছে প্রচুর জল। তিলোত্তমার মা এখন পানিহাটির বিজেপি MLA। কিন্তু একমাত্র মেয়ে হারানোর যন্ত্রণা তা ভুলবেন কীভাবে? সেই কারণে আপাতত সাত দিন যোগাযোগ থেকে বিরত থাকছেন বলে জানালেন পানিহাটির বিধায়িকা।
দু’বছরের আগের ৮ অগস্টের রাত। ভয়ঙ্কর কষ্ট-নির্যাতনের শিকার হন তিলোত্তমা। তাঁর মাকে বারবার বলতে শোনা যায়, “আমরা যখন ঘুমোচ্ছিলাম, মেয়েটা সেই সময় কতটা কষ্ট পেয়েছে..।” কর্তব্যরত চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সারারাত ধরে চলে নারকীয় অত্যাচার। ঘটনায় পুলিশি তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। আন্দোলনে উত্তাল হয় গোটা দেশ। পথে নামেন চিকিৎসকরা। বিক্ষোভ, আন্দোলন, অনশন কী দেখেনি বাংলা। ময়দানে নামতে হয় খোদ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। চিকিৎসক পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে সরিয়ে ফেলা হয় তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকেও। আরজি কর আন্দোলনের খবর তখন মুখে মুখে ফিরেছিল সকলের। রাত দখল থেকে শুরু করে বিক্ষোভ আন্দোলন কী হয়নি।
এখন পালা বদল হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। পানিহাটির বিজেপির বিধায়ক হয়েছেন রত্না দেবনাথ। আবার সেই ভয়ঙ্কর দিন আসছে। যেদিন সবটা হারিয়েছিলেন তিনি। তাই এই কয়েকদিন একটু নিঃসঙ্গতায় থাকতে চাইছেন তিনি। লিখলেন, “আমি আপনাদের থেকে সাত দিন আমার ব্যক্তিগত কারণে চেয়ে নিচ্ছি। আগামী সাতদিন আমি ফোনে বা সরাসরি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব না। কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত না থাকার আর্জি জানাচ্ছি। আমার জনতার কার্যালয়ে অফিসিয়াল কাজ যেমন চলার চলবে আপনারা প্রয়োজনে যোগাযোগ করে নেবেন। আমার এই কদিনের অনুপস্থিতি আপনারা আন্তরিকভাবে মার্জনা করবেন আশা রাখি।”