
কলকাতা: FIR খারিজের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) খারিজের আবেদন জানিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। গড়িয়াহাট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলার আইনি গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের গরমের ছুটির অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আগামী ২৯ মে (শুক্রবার) বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন, অর্থাৎ ২ মে। তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিকাল নাগাদ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছিলেন। দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে ‘বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষণা হোক।’ অভিনেতার সেই পোস্টে সায় দিয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কমেন্ট করেছিলেন, ‘হোক হোক…’
সম্প্রতি আইনজীবী জয়দীপ সেন গড়িয়াহাট থানায় এই দুই তারকার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, যখন রাজ্যে ভোট পরবর্তী অশান্তির খবর আসছিল, ঠিক তখন সেলিব্রিটিদের এমন পোস্ট সমাজকে আরও বেশি হিংসাত্মক হতে উসকে দিয়েছিল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গড়িয়াহাট থানা ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১০৯ (প্ররোচনা) এবং ১৫৩এ (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ানো)— যা একটি জামিন অযোগ্য ধারা, তার অধীনে পরমব্রত ও স্বস্তিকার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।
এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দু’জনকেই নোটিস পাঠিয়ে তলব করেছিল। গত শনিবার অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন এবং সেখানে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সেই তলব এড়িয়ে সরাসরি আইনি সুরক্ষার খোঁজে এবং আইনি প্রক্রিয়া বাতিল বা কোয়াশিং (Quash) করার আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন।