Jadavpur Chaos: বুলডোজ়ারে উঠে প্রতিবাদ, পুলিশের ‘লাঠিচার্জ’! হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র যাদবপুর, আহত সুজন-সহ অনেকে, আটক সৃজন

Jadavpur Station Eviction Protest: জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যার পর যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় আচমকা হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্টেশনের কাছেই বেশ কয়েকটি বুলডোজার রাখা ছিল। ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিছুক্ষণের মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

Jadavpur Chaos: বুলডোজ়ারে উঠে প্রতিবাদ, পুলিশের লাঠিচার্জ! হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র যাদবপুর, আহত সুজন-সহ অনেকে, আটক সৃজন
যাদবপুরে বিক্ষোভImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Jun 08, 2026 | 10:21 AM

কলকাতা: যাদবপুর স্টেশনে (Jadavpur Station) হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র যাদবপুর। রবিবার সন্ধে থেকেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। বুলডোজ়ার (Bulldozer) দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়, একের পর এক বেআইনি দোকান। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন সিপিএম (CPIM) ও কংগ্রেস নেতারা (Congress)। উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ করেন সুজন (Sujan Chakraborty), সৃজনরা (Srijan Bhattacharya)। কখনও বুলডোজ়ারের সামনে শুয়ে পড়ে, কখনও আবার বুলডোজ়ারের উপর উঠে প্রতিবাদ দেখান তাঁরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। আহত হন সুজন চক্রবর্তী-সহ বেশ কয়েকজন। আটক করা হয় সৃজন চক্রবর্তীকে।

যাদবপুর স্টেশনে বুলডোজ়ার

জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যার পর যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় আচমকা হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্টেশনের কাছেই বেশ কয়েকটি বুলডোজার রাখা ছিল। ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিছুক্ষণের মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সন্ধে নাগাদই ঘটনাস্থলে পৌঁছন সৃজন ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তী, ঊষসী চক্রবর্তী, কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়রা। উচ্ছেদ অভিযান আটকাতে বাম ও কংগ্রেস সংগঠনগুলি একযোগে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।

পুলিশের লাঠিচার্জ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের তীব্রতাও বাড়তে শুরু করে। বুলডোজারের সামনেই শুয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। আবার কয়েকজন বুলডোজারের উপরে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ এবং রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয়নি। রাত একটা নাগাদ জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে ময়দানে নামে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি, তারপর পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। লাঠির ঘায়ে আহত হন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী-সহ বেশ কয়েকজন। আটক করা হয় সৃজন ভট্টাচার্জকে।

জমায়েত ছত্রভঙ্গ হতেই ফের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ২নং স্টেশন সংলগ্ন মাঠে বেশ কয়েকটি বিল্ডার্সের অফিস এবং কয়েকটি ছোট দোকান ভেঙে ফেলা হয়। ওই এলাকায় বেশকয়েকটি বাড়িও ছিল। বাসিন্দাদের অনুরোধে, তাঁদের ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

কী বলছেন সুজন, সৃজনরা?

ঘটনা প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পুলিশ অসভ্যের মতো, অমানুষের মতো, ডবল ইঞ্জিন সরকারের অর্ডার নিয়ে পিটিয়েছে। প্রথমে বাচ্চাদের উপরে, আমি বাঁচাতে গেলে আমাকে।” আটক করার পর প্রিজন ভ্যান থেকেই চিৎকার করে সৃজন বলেন, “আমরা আছি। বেআইনি কাজ করছে রেল। রেল আদালতকে এড়িয়ে আইনকে এড়িয়ে আজ উচ্ছেদ করতে এসেছে। আমাদের জোর করে বেআইনিভাবে আটক করেছে। আমরা হারব না।

ঊষশী চক্রবর্তী বলেন, “অনেক আশা-আকাঙখা নিয়ে সরকার বদল করেছেন। সরকারের সহানুভূতির সঙ্গে এটা বিচার করা উচিৎ। শহরবাসী হিসেবে আমিও চাই রাস্তাঘাট, স্টেশন ঝকঝকে হোক। কিন্তু, যে গরিব মানুষের রুটি-রুজি এখানে যুক্ত তাঁদের আগে পুনর্বাসন করা হোক।”

সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, সৃজন ভট্টাচার্য সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক রামগড়ের ঋতব্রত ঘোষ। জানা গিয়েছে, জয়রাজ ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তীর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আহত প্রায় ১৫। এদিকে, সৃজন ভট্টাচার্যের মুক্তির দাবিতে রাত তিনটে থেকে  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নং গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন ছাত্রছাত্রীরা।

Follow Us