
কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে (Camac Street News) বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অফিসে অবৈধ বিলবোর্ড খোলা নিয়ে অশান্তির ঘটনায় তৃণমূল সাংসদকে তলব করল পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় শেক্সপিয়র সরণী থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁকে। অভিষেকের পাশাপাশি ডেরেককেও (Derek O’Brien) তলব করা হয়েছে। আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের হোর্ডিংকে ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। হোর্ডিং অবৈধ বলে অভিযোগ তুলে তা ভাঙতে আসেন পুরসভার কর্মীরা। সঙ্গে ছিল শেক্সপিয়র থানার পুলিশ। কিন্তু, অভিযোগ, অফিসে ঢুকতেই বাধা পান পুরসভার কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয় তৃণমূল কর্মীদের। অফিসে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন। অফিসে জোর করে ঢুকতে গেলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তারপর দেড় ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে পুলিশের সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের কর্মীদের হাতাহাতি। ছবিতে দেখা গিয়েছে, কাজে বাধা দিতে কার্যত শুয়ে পড়েন ডেরেক। পুরকর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে অভিষেকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, উর্দি পরা পুলিশের গায়ে হাতও তোলেন তৃণমূল কর্মীরা। কলার টেনে হিঁচড়ে চলতে থাকে কিল চড় ঘুষি। গোটা ঘটনা অভিষেকের সামনেই ঘটে। কিন্তু, তৃণমূল কর্মীদের একবারও তিনি বাধা দেননি বলে অভিযোগ।
অশান্তির ঘটনার তিনটি মামলা দায়ের হয়। তার একটি মামলাতেই অভিষেককে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, ডেরেককেও তলব করা হয়েছে। গতকাল এই মামলায় ডেরেকের বাড়িতে নোটিস দিতে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু, নোটিশ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশকে জানানো হয়, ডেরেকের নির্দেশ আছে নোটিস না নেওয়ার। এরপর রবিবার সকালে ফের নোটিস নিয়ে সাংসদের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। সেইসময় বাড়িতে ডেরেক ছিলেন না। তাঁর বাড়ির এক কর্মী পুলিশের থেকে নোটিসটি গ্রহণ করেন। সোমবার তাঁকে তলব করা হয়েছে। আর মঙ্গলবার অভিষেককে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। অভিষেকের অভিযোগ, এই ভাবে বিলবোর্ড ভেঙে ফেলা বেআইনি। পুরসভার কাছে এই সংক্রান্ত কোনও নোটিস ছিল না বলে অভিযোগ তোলেন। এরপরই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেক। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চে মামলা করা হয়। কিন্তু, বিচারপতি বসুরায়চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। সাইনবোর্ড যেহেতু ইতিমধ্যেই ভাঙা হয়েছে, তাই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস জবরদখলের অভিযোগও উঠেছে। চুক্তি লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর দখলের অভিযোগ তুলেছে মালিকপক্ষ। কালীঘাট তৃণমূলকে (Kalighat TMC) আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। ২০২০ সালে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বাড়ির মালিকের সঙ্গে চুক্তি হয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের। জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী সই করেছিলেন ওই চুক্তিতে। কিন্তু, মালিকপক্ষের অভিযোগ চুক্তিতে যে যে শর্ত ছিল তা মানা হয়নি।