
কলকাতা: স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত। ভূরি ভূরি অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ফেরার ছিলেন। মাস সাতেক আগে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। তারপরও গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক ব্যক্তিকে ধারা মারার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হন। কিন্তু রাতারাতি বারাসত আদালত থেকে জামিনও পেয়ে যান তিনি। এবার এই ঘটনায় পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পুলিশের একাংশের সঙ্গে অভিযুক্তদের গোপন আঁতাত বা ‘সেটিং’ রয়েছে বলেও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুলিশের পুরনো অভ্যাস এখনও পুরোপুরি বদলে যায়নি। ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমিও পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছি, এইসব লোকদের আপনারা অ্যারেস্ট করছেন না কেন? পুলিশ নাকি এদের খুঁজে পাচ্ছে না! অথচ অথচ দেখা যাচ্ছে, সন্ধ্যেবেলা এরাই পুলিশের সঙ্গে একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছে।”
অভিযোগ, প্রশান্ত বর্মন নিউটাউনের রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন, তারপর গাড়ি না থামিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। সে সময়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। নাম শামিম আহমেদ। তিনিই ফেসবুক লাইভ করে প্রশান্তর কীর্তি সামনে আনেন। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ‘প্রভাবশালী’ প্রশান্ত রাতারাতি ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় কি এই শামিম আহমেদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে? ওই ব্যক্তি কতটা সুরক্ষিত থাকবেন?
তবে দিলীপ সাফ জানান যে, “অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে গেলেই খুন করে দেবে—সেই দিন আর নেই। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা শেষ হয়ে যায়নি, সবাই সুরক্ষিত আছেন।” একই সঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যদি আরজি করের ফাইল নতুন করে খোলা হতে পারে, তবে সবকিছুই আবার নতুন করে শুরু হতে পারে।”