
কলকাতা: দলের ‘বিপর্যয়ে’র সময়ে তৃণমূলের একের পর এক নেতার তোপের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কোচবিহারের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, মালদহের কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী সহ একাধিক নেতা অভিষেকের ‘কর্পোরেট’ স্টাইল ও আইপ্যাক নির্ভরতার সমালোচনা করে সরাসরি তোপ দেগেছেন। তা নিয়ে অবশ্য তাঁদের কপালে নেমে এসেছে শাস্তির খাড়া। এবার মুখ খুললেন ফিরহাদ হাকিমের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি মহাকাব্যের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতাকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’,
অভিষেককে ‘দুর্যোধন’ বলে খোঁচা দিলেন। লিখলেন, “চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।” দুই মহাকাব্যের তুলনা টেনে মমতাকে খোঁচা দিলেন পরিবারতন্ত্র নিয়ে।
প্রিয়দর্শিনীর ইঙ্গিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল, আর সেই কারণেই আজ দলের এই বেহাল দশা। এখানেই শেষ নয়, তিনি নেত্রীকে বিঁধে বলেন, মমতা এখন অন্যের কথায় ওঠেন বসেন। দলের দীর্ঘদিনের সেনাপতিদের চেয়েও নবীন প্রজন্মের কথাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন
পরিবারতন্ত্র নিয়ে আক্রমণ করতে গিয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম টেনে এনেছেন রামায়ণ ও মহাভারতের প্রসঙ্গ। দুই মহাকাব্যের তুলনা টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অতীতেও পরিবারতন্ত্রের কারণে বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে। মমতাকে দেওয়া তাঁর এই খোঁচা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের অন্দরে ববি হাকিম যে কোনওদিনও অভিষেক ঘনিষ্ঠ ছিলেন না, তা রাজনৈতিক মহলে ওপেন সিক্রেট। তবে সম্প্রতি সংঘাত চরমে পৌঁছয় বয়সের সীমারেখা নিয়ে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দলে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ এবং বয়সের উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার সওয়াল করেছিলেন, তখন সেই ফতোয়ার বিরুদ্ধে সবথেকে সোচ্চার ছিলেন ববি হাকিমই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ববি হাকিমের মেয়ের এই ‘বিদ্রোহ’, দলের খারাপ সময়ে সংগঠনের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় উঠে আসছে। আগামী দিনে নতুন কোনও মেরুকরণের ইঙ্গিতও হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।