
কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের ঠেক, মিড ডে মিল নিয়ে চাপানউতোর তুঙ্গে। অবশেষে জল গড়াল আদালতে। এবার কলকাতার প্রাথমিক স্কুলে মিড ডে মিলে ডিম-মাছের মতো আমিষ খাবারের বদলে রাজমা, ডাল খাওয়ানোকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের কলকাতা হাইকোর্টে। ইসকনের মতো সংস্থার হাতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া নিয়েও এই জনস্বার্থ মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলা করেছেন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে তথা আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়েই শুরু নতুন চর্চা।
সূত্রের খবর, জনস্বার্থ মামলাটি শুনানির ক্ষেত্রে সময় চাইছে রাজ্য। সময় চেয়েছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ মিত্র। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ আগামী মঙ্গলবার মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করেছে। মামলাকারীর অভিযোগ, মাছ-ডিমের মতো খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আদপে আমিষ খাবারের পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বাচ্চাদের। অন্যদিকে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যের হাজার হাজার সেলফ হেল্প গ্রুপের মহিলাদের কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর পিছনে অস্বচ্ছতা, ষড়যন্ত্র আছে কি না তা দেখে পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে হাইকোর্টের কাছে।
মামলা হতেই তা নিয়ে স্বভাবতই চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আঙিনাতেও। পক্ষে-বিপক্ষে উঠে আসছে নানা মত। প্রসঙ্গত, এবারের বাজেট ঘোষণার পরপরই ইসকনকে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট বলেছিলেন, “পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। তারাই খাওয়াবে। খেয়ে দেখুন, গুণমানে ভালো। আপনার ইচ্ছা না হলে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলবেন না।” এই আবহে এখন কলকাতা হাইকোর্ট তাঁদের পর্যবেক্ষণে কী জানায় সেদিকে নদর রাজনীতির কারবারি থেকে নাগরিক মহলের।