
কলকাতা: রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগকে পুলিশমুক্ত রাখতে জনস্বার্থ মামলা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। এই বিভাগের প্রশাসক বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা যাবে না কোনও পুলিশকে। এখানেই শেষ নয়, আবেদন করা হয়েছে ফরেন্সিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ ছাড়া কিংবা বাইরে থেকে ডাক্তার বা অন্য কোনও বিশেষজ্ঞ ছাড়া কাউকে দেওয়া যাবে না গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব। বজায় রাখতে হবে ফরেন্সিক বিভাগের নিরপেক্ষতা। আর সেই কারণেই কোনও পুলিশ অফিসারকে এই বিভাগের মাথায় বসানো যাবে না, এই মর্মে আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।
আবেদনকারীর যুক্তি, কোনও ঘটনায় ফরেন্সিক বিভাগের গুরুত্ব ঠিক কতটা তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। নমুনা সংগ্রহের উপরই কোনও ঘটনার তদন্তের গতি প্রকৃতি নির্ভর করে। সেই কারণে এই বিভাগে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ সব তদন্তের দায়িত্বে থাকেন। তাঁরা নমুনা পরীক্ষা করে পুলিশকে রিপোর্ট দেন। সেই রিপোর্টই তদন্তে সাহায্য করে ও বিচার সুনিশ্চিত করে। সে ক্ষেত্রে পুলিশই যদি ফরেন্সিক বিভাগ চালায়, তাহলে সেই নমুনার রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। তৃণমূল জমানায় প্রথা ভেঙে দীর্ঘদিন রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের প্রশাসক পদে যুক্ত করা হয়েছিল আইপিএসকে জয়রামনকে। ইতিমধ্যেই এই মামলা গ্রহণ করেছেন প্রধান বিচারপতি। আজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
অতীতে একাধিকবার ফরেন্সিক ল্যাবের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আরজি করে চিকিৎসক পড়ুয়াকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় এই ফরেন্সিকের নমুনা সংগ্রহের কাজে পাঠানো হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ারদের। যেখানে বিশেষজ্ঞদের পাঠানোর কথা সেখানে কি না গিয়েছিলেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। এর জেরে কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি। এখানেই শেষ নয়, কখনও আবার অভিযোগ ওঠে কিছু-কিছু ঘটনা কোনও নমুনাই সংগ্রহ করা হয় না। ফলে ঘটনার অকুস্থল কতদিন কর্ডন করা থাকবে তা থানাও জানতে পারে না। ফিরেন্সিক বিভাগের এ হেন একাধিক সমস্য়ার কারণে এবার মামলার জল গড়াল হাইকোর্ট পর্যন্ত।