Calcutta High Court CJ: বাবা-মায়ের আত্মত্যাগ থেকে স্ত্রীর সহশীলতা-লড়াইয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার, শপথ গ্রহণে আবেগঘন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে

Calutta High Court Chief Justice Ravindra v Ghuge:কলেজে ওঠার পর তাঁর সঙ্গী হয় একটা বাইক। তিনি বলেন, সাড়ে সাতটা বছর সেই বাইকই ছিল তাঁর সঙ্গী। ঝড়ঝঞ্ঝা, চড়াই-উৎরাইয়ের সাক্ষী সে। মজার ছলেই তিনি বলেন, "আমি অবশ্যই বাইক চালানোর সময়ে হেলমেটটা পরতাম।" একজন আইনজীবী তাঁর পেশাগত জীবনের শুরুর দিকে কীভাবে স্ট্রাগল করেন, সে কথাই তিনি আদতে এর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। 

Calcutta High Court CJ: বাবা-মায়ের আত্মত্যাগ থেকে স্ত্রীর সহশীলতা-লড়াইয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার, শপথ গ্রহণে আবেগঘন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেImage Credit source: TV9 Bangla

Sep 09, 2026 | 1:38 PM

কলকাতা: বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসাবে তিনি দায়িত্ব সামলেছেন। এবার তাঁর কথায় পূর্ব থেকে সরাসরি পশ্চিমে তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসাবে বুধবার শপথগ্রহণ করলেন রবীন্দ্র ভি ঘুগে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি। এদিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখার সময়েই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। কোনও আইনের মারপ্যাঁচ, আইনি পরিভাষায় কোনও কথা বলেননি তিনি। বললেন তাঁর জীবনের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে অসম লড়াইয়ের কথা। কীভাবে তিনি তাঁর স্কুলজীবন কাটিয়েছেন, কীভাবে একেবারেই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়েছিলেন স্বপ্নের লক্ষ্যে।

প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বাবা ভিত্তাল রাও ঘুগে একজন অধ্যাপক ছিলেন। এদিন শপথগ্রহণের সময়ে শুরুতেই বাবা-মায়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি। বারবার তাঁর কথায় উঠে আসে, আজকে তাঁর এই জায়গায় পৌঁছানোর পিছনে তাঁদের কী ভূমিকা। ছেলেবেলায় বাড়ি থেকে তাঁর স্কুলের দূরত্ব ছিল চার মাইল। প্রতিদিন সেই পথ সাইকেলেই উজাতেন তিনি। ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করার। স্কুল জীবনের পর ভর্তি হন ল’কলেজে। কলেজে ওঠার পর তাঁর সঙ্গী হয় একটা বাইক। তিনি বলেন, সাড়ে সাতটা বছর সেই বাইকই ছিল তাঁর সঙ্গী। ঝড়ঝঞ্ঝা, চড়াই-উৎরাইয়ের সাক্ষী সে। মজার ছলেই তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই বাইক চালানোর সময়ে হেলমেটটা পরতাম।” একজন আইনজীবী তাঁর পেশাগত জীবনের শুরুর দিকে কীভাবে স্ট্রাগল করেন, সে কথাই তিনি আদতে এর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

কলেজজীবন শেষের পর তাঁর স্ত্রীর প্রসঙ্গ ওঠে আসে প্রধান বিচারপতির মুখে।  তিনি জানান, আইনজীবী  হিসাবে তিনি সবে প্র্যাকটিস শুরু করেছেন। সালটা ১৯৯০। সে সময়ে তিনি বিয়ে করেন। তাঁর কথায়, “আমার স্ত্রী বর্ষা আমাদের জীবনের প্রতিটা ঘাত প্রতিঘাতের পাশে থেকেছে। সেই সময় থেকে। আমার সেই সাইকেলের সিট থেকে কলকাতা হাইকোর্টের সেন্টার চেয়ারটা পর্যন্ত এই জার্নি কেবল আমার গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিজ্ঞাকেই বহন করে চলেছে।”

জুনিয়রদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “এই মহান পেশার জন্য একমাত্র প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায়, ডেডিকেশন। আর পেশাজীবনের শুরু থেকে সাফল্যের শিখরের মাধ্যমে যেন একটা সেতুবন্ধন থাকে।” তিনি বলেন, “আমি আশা করব, আমার জুনিয়রদের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছয়। তাঁরা যেন এই স্ট্রাগলের কথা মাথায় রাখেন।” এদিন বাবা-স্ত্রীর পাশাপাশি প্রয়াত মায়ের কথাও স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলতে থাকেন, কীভাবে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাঁর মা ছোট ছোট আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁর কথায়, “আজ তো তিনি আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমি খুবই মিস করছি তাঁকে। আজ আমি  যা, তা সবটাই আমার পরিবারের আত্মত্যাগের জন্যই। ” তাঁর কথায়, “এথিক্সের কাছে কোনওভাবেই সমঝোতা নয়।” বার কাউন্সিলরের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আমি এখনও একজন আইনজীবী। কোনও সমস্যা হলে বসে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। বিচারের দরজা খোলা রাখাই দরকার। সাধারণ মানুষের জন্যে বিচার দিতে হবে। বকেয়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি দিকে নজর দিতে হবে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us