
কলকাতা: তাঁর অবস্থান কী? তৃণমূল যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তখন তাঁকে নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতেও দেখে যায়নি তাঁকে। ফলে জল্পনা আরও বাড়ে। তৃণমূলের শহিদ দিবসে সব জল্পনার অবসান ঘটালেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার। মঙ্গলবার শহিদ দিবস পালনে তিনি পৌঁছে গেলেন বিড়লা তারামণ্ডলে।
এদিন কালীঘাট তৃণমূল বিড়লা তারামণ্ডলে শহিদ দিবস পালন করছে। সেখানে দেখা যায়, মমতাপন্থী একাধিক সাংসদ, বিধায়ক উপস্থিত হয়েছেন। মঞ্চে দেখা যায় লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্রকে। আর মঞ্চে মহুয়ার ঠিক পিছনের চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায় রাজীব কুমারকে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, তৃণমূলের একের পর এক সাংসদ যখন শিবির বদলেছেন, তখন রাজীব কুমার স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি মমতার সঙ্গেই রয়েছেন।
রাজীব কুমার প্রাক্তন আইপিএস অফিসার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। রাজীব কুমার রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি। এছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছিল।
আর রাজীব কুমার অবসর নেওয়ার পরই তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায়। চলতি বছরের এপ্রিলে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন রাজীব। তাঁর সঙ্গে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও রাজ্যসভার সাংসদ হন তৃণমূলের টিকিটে। কিন্তু, পালাবদলের পর কয়েকদিন আগেই কোয়েল মল্লিক সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফা দেওয়ার পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন টলিউড অভিনেত্রী। ফলে বিজেপির টিকিটে তাঁর রাজ্যসভায় ফের যাওয়া নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। কারণ, এর আগে তৃণমূলের তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব পদত্যাগ করে আবার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছেন।
তৃণমূলের লোকসভার ২০ জন সাংসদ আবার এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূলের এই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার মধ্যেই রাজীব কুমারকে নিয়েও জল্পনা ছড়ায়। কারণ, বাংলায় পালাবদলের পর রাজীব কুমারকে আর প্রকাশ্যে তেমন দেখা যায়নি। ফলে তিনিও শিবির বদল করবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ে। এদিন সেই সব জল্পনাতেই জল ঢাললেন রাজীব কুমার।