
কলকাতা: তাঁর মেয়েকে খুন-ধর্ষণ করা হয়েছিল। সেই বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি গিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। অভিযোগ, কোনও সুরাহা হয়নি, উল্টে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রমাণ লোপাট হয়েছে। আজ সেই সন্তানহারা মা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। এখন তিনি বসে আছেন নবান্নে। এই নবান্নেই একসময় বসে গোটা রাজ্যের রাজ্য-পাট সামলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সেখান থেকেই তাই তৃণমূল সুপ্রিমোকে খোঁচা তিলোত্তমার মা তথা বিধায়ক রত্না দেবনাথের। লিখলেন, “সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।”
আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবান্নের চোদ্দ তলায় বৈঠক ছিল বিজেপি-র ছাব্বিশজন বিধায়ককে নিয়ে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রত্নাদেবীও। এই চোদ্দ তলায় একসময় বসতেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিধায়ক হয়ে সেই নবান্নের চোদ্দতলায় বসেই রত্না লিখলেন নিজের যাত্রার কথা। তাঁর কথায়, “আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায়। মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী….তাঁর সঙ্গে বৈঠকে।”
এখানেই শেষ নয়, তীব্র খোঁচা মেরে তিনি লেখেন, “আজ আমি এবং মমতা দু’জনই সর্বহারা।” তিনি তাঁর একমাত্র মেয়েছে হারিয়েছেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ক্ষমতা ‘গদি’ হারিয়েছেন। ফলে দুজনই যে হারিয়েছেন সব কিছু সেইটাই ছত্রে-ছত্রে উল্লেখ করেছেন।
এখানে উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার নতুন করে ফের খুলেছে আরজি কর-কাণ্ডের ফাইল। সন্দীপ ঘোষ, অভীক দে-র মতো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। এমনকী, আর একটি মামলায় তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে ওই দলকে আদালতে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।