
সুপ্রিয়ো গুহ ও রঞ্জিত ধরের রিপোর্ট
কলকাতা: রক্ত ও প্লাজমা পাচারের অভিযোগ। হাজরা মোড়ের একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালাল স্বাস্থ্য দফতর। রক্ত সংগ্রহের নামে ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, রক্তদাতাদের থেকে যে ব্লাড ব্যাগে রক্ত সংগ্রহ হয়, নিয়ম অনুযায়ী ৩৫০ এমএল রক্ত নেওয়ার কথা। কিন্তু হাজারার তেমনটা হয়নি বলে দাবি। উল্টে ৫০০ এমএল রক্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তেমনই হাজরা মোড়ের ঘটনা। এ দিন যখন হঠাৎ স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা সেখানে পৌঁছন। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। এমনকী, ‘তৃণমূল নেতাদের’ নাম লেখা স্ট্যাম্পও উদ্ধার। কোথাও লেখা সুজিত বসু, কোথাও লেখা ফ্রি। রক্ত সরবরাহ বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সেগুলি ব্যবহার হত কি না, দেখা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের ব্লাড দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে ওই ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে।
এ দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আগে তল্লাশি করেছিলাম সব বন্ধ করে দেওয়া হল। এখন থেকে কোনও রক্ত গ্রহণ করে থাকলে কাউকে দেওয়া হবে না। নিয়ম অনুযায়ী সকলে চলতে হবে। আজ আমরা একটি প্রাইভেট ব্লাড ব্যাঙ্কে তল্লাশি করেছি। কয়েকটি বাকি আছে। সেটাও শেষ করব তাড়াতাড়ি। ফ্রি বলে লেখা আছে কয়েক জায়গায়। সুজিত বোস, ফ্রি,তাপস চ্যাটার্জী ফ্রি। এই ফ্রি বলে কী দেওয়া হচ্ছে সেটা চিন্তার বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “সাধারণত ফুল বা খাবার ছাড়া কেউ কিছু দিতে পারে না রক্তদাতাদের। শুনেছি চুপচাপ কুপন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। নিয়ম এর থেকে বেশি রক্ত নিয়েছে। ১টি ব্লাড ব্যাঙ্ক এখনই বন্ধ করলাম। বাকিগুলো দেখা হচ্ছে আইন অনুযায়ী।”
এরপর রক্ত পাচারের অভিযোগ তোলের রাজ্যের মন্ত্রী। তিনি বলেন, “রক্ত ভীন রাজ্যে পাচার হচ্ছে। আনুমানিক কয়েকশো কোটিতে দুর্নীতি হচ্ছে। যা তথ্য পাচ্ছি আমার আওতার বাইরে। মোট ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ককে শোকজ করা হয়েছে। আর একটিকে বন্ধ করলাম।”