
কলকাতা: রেলের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, শুক্র-শনি-রবি তিনদিন যাত্রী পরিষেবা বিঘ্নিত হবে শিয়ালদহ থেকে। কিন্তু, রবিবার দুপুরে শিয়ালদহ স্টেশনে যাত্রীদের বিক্ষোভের জেরে দুপুর থেকেই ট্রেন পরিষেবা চালু করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রবিবার পেরিয়ে সোমবারও যাত্রী ভোগান্তি অব্যাহত। সোমবার রাতেও শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বিভিন্ন লোকাল ট্রেন দেরিতে ছাড়ার অভিযোগ। আর এসবের মধ্যে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে ট্রেনের জন্য।
রেলের তরফে তিন দিনের কথা বলা হয়েছিল। সেই মতো যাত্রীরাও আশায় ছিলেন, সোমবার থেকে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সেই মতো অফিস থেকে ফেরার সময় শিয়ালদহ স্টেশনে চলে আসেন তাঁরা ট্রেন ধরতে। কিন্তু, স্টেশনে এসে বাড়ি ফিরতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা তাঁদের। ট্রেন চলছে বটে, তবে বেশ দেরিতে। শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা অভিষেক দে’র বাড়ি হাসনাবাদে। রোজদিন ট্রেনেই যাতায়াত করেন তিনি। বাড়ি ফিরতে গিয়ে বেজায় সমস্যায় পড়েছেন তিনি। তবে একইসঙ্গে অবশ্য তিনি এটাও মানছেন, ‘অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এত বড় সিস্টেম, সামগ্রিক একটা সমস্যা হচ্ছে। এটা মেনে নিয়েই চলতে হবে। এটা ঠিক হয়ে গেলে, আশা করছি সময়েই ট্রেন ছাড়বে।’
তবে অভিষেকবাবুর মতো সবার মেজাজ এতটা শান্ত নেই। সারাদিন অফিস করে, ঘাম ঝরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেন দেরিতে চলায় মেজাজ তিরিক্ষে উঠেছে অনেক যাত্রীরই। কেউ বলছেন, ‘সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। আমরা তো পয়সা দিয়েই ট্রেনে যাই। এখনও বাড়ি যেতে পারলাম না, কাল আবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই ছুটতে হবে।’ কখন বাড়ি ফিরবেন, কখন খেয়ে-দেয়ে একটু ঘুমাবেন, সেই ভেবেই মাথা গরম যাত্রীদের।
এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্রর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সব পরিষেবাই স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ট্রেনের গতি একটু ধীর আছে। তার সঙ্গে গত তিন দিনের সমস্যার কোনও যোগ নেই।”