
কলকাতা: কলেজ স্কোয়ারে খুঁটি পুজোর উদ্বোধন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর বিশ্বাস ব্রাদার্স ছাড়াই হল সুরুচি সঙ্ঘের খুঁটিপুজো। রাজ্যে পালাবদলের পর তাহলে কি বদলে যাচ্ছে বিগ বাজেটের পুজোর ‘কর্তা?’ কলেজ স্কোয়্যার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, ‘শুধুমাত্র শমীক ভট্টাচার্যকে খুঁটিপুজোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’ সূত্রের খবর, কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি তরফ থেকে শমীক ভট্টাচার্যকে চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি যে কোনও পুজো কমিটির সভাপতি হবেন না, তা তখনই জানিয়ে দেন।
পুজো উদ্যোক্তাদের তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, বরং সমাজের নিরপেক্ষ, গুণী এবং প্রতিষ্ঠিত মানুষেরাই এই ধরনের ঐতিহাসিক পুজো কমিটির দায়িত্বে থাকুক। তবে পুজো কমিটির পদে না থাকলেও, আমন্ত্রিত হিসেবে খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে তিনি অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন, সেকথাও বলেছিলেন। কলেজ স্কোয়ারের পুজোর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে শমীক ভট্টাচার্য জানান, তিনি নিজে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে এই পুজোর সভাপতি পদে বসতে ইচ্ছুক নন।
তাঁর কথায়, বিগত কয়েক বছরে পুজো নিয়ে নোংরা প্রতিযোগিতা, পেশীশক্তির প্রদর্শন বা উৎসবকে কেন্দ্র করে একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই প্রবণতা তাঁদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আদর্শের সঙ্গে মেলে না।
তাঁর মতে, পুজো কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থানীয় মানুষ এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই থাকুন, আর এটাই তাঁর আন্তরিক ইচ্ছা। ঘটনাচক্রে, গত সোমবারই জানা গিয়েছে যে দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার কলকাতার অন্যতম হাইপ্রোফাইল পুজো ‘সুরুচি সংঘ’-এর নতুন সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন। তিনি এদিন খুঁটিপুজোও করেন। অন্যদিকে আসানসোলেও একটি পুজোর খুঁটিপুজো করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছরে বাংলায় বিগ বাজেটের পুজোগুলোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে পূর্বতন সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের নাম। নেতা-মন্ত্রীদের নামেই পরিচিতি পায় কলকাতায় এক-একটি বড় পুজো। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই পুজোগুলোর ভবিষ্যৎ ও বাজেট নিয়েও সংশয় তৈরি হয়। তবে শমীকের মতে, পুজো কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির নামে নয়, পুজো পরিচিত পাক সাধারণ মানুষের জন্যই।