
কলকাতা: ব্যবসায়ীর থেকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। গ্রেফতারির ৬ ঘণ্টার মধ্যেই বেকসুর খালাস শামস ইকবাল। ১০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পান তিনি। ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ শাম্স। গার্ডেন রিচের এক ব্যবসায়ীকে চমকিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কলকাতার আরেক তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল। শাম্স কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মহম্মদ শাদাব নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু ৬ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আদালতে জানান, অভিযোগ তুলে নিতে চান তিনি।
আলিপুর আদালতে দু’পক্ষেরই আইনজীবী বিচারকের সামনে সওয়াল করেন, “ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে দীর্ঘদিনের চেনা। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তা সমঝোতা হয়ে গিয়েছে।” তখন বিচারক অভিযোগকারীর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “আপনি রাজি আছেন তো? উনি বেকসুর খালাস হয়ে যাবেন।” অভিযোগকারী বলেন, “হ্যাঁ”। এরপর ১০০০ টাকার বন্ডে শামস ইকবালকে জামিন দেয় আদালত।
এদিন সকালেই শামস ইকবালকে একেবারে গার্ড করে থানা থেকে বার করে। যে দৃশ্য বিগত কয়েকদিনে দেখা যায়নি। সব্যসাচী দত্তকেও প্রিজন ভ্যানে তোলার সময়ে ঢিম ছুড়েছিল জনতা। কিন্তু এদিন থানা থেকে এমনভাবে শামসকে গার্ড করে বার করা হয়, সাংবাদিকরাও তাঁর ছবি তুলতে পারেন না। দৃশ্যত পুলিশ ঢাল দিয়ে ঢেকে রাখে যাতে সামসের ছবি না উঠে, সেইভাবেই আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়।
গার্ডেন রিচের প্রভাবশালী কাউন্সিলর শামস। তাঁর জীবন অত্যন্ত বর্ণময়। ২০২১ সালের পুরভোটে গার্ডেনরিচ থেকে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলেন তিনি। পুরসভায় লাল রঙের চোখধাঁধানো অ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি নিয়ে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। শামসের সামাজিক মাধ্যমের পেজে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, তাঁর জীবনযাত্রা কতটা বর্ণময়। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সান্নিধ্যে থাকতেই পছন্দ করতেন শামস।
২০২১ সালের কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে একমাত্র তৃণমূল প্রার্থী, যিনি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, মূল বিরোধীদল গুলির কাউকে ভোটে দাঁড়াতে দেয়নি, উল্টো দিকে। সূত্রের খবর, কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। গার্ডেনরিচ এবং মেটিয়াবুরুজ এলাকায় তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন এই ইকবালই নাম লিখিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের তালিকায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেলে যুক্ত হয়ে প্রতি বৈঠকে হাজির থেকেছেন। সম্প্রতি যোগা দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ধরেও প্রণাম করেছিল এই কাউন্সিলর।