
কলকাতা: শেখ শাহজাহান- সন্দেশখালির এই ব্যক্তির রেকর্ড যত হাতড়ে বার করছেন তদন্তকারীরা, ততই চমকে উঠলেন তদন্তকারীরা। জমি দখল, ভেড়ি দখলের অভিযোগ তো ছিলই, কিন্তু শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আমদানি-রফতানি সংক্রান্তও একটি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এবং সেই মামলার তদন্তে নেমেই উঠে আসে শাহজাহানের চিংড়ি প্রীতির কথা! তদন্তকারীদের দাবি, চিংড়ি মাছের ব্যবসার আড়ালেই লক্ষ লক্ষ কালো টাকা সাদা করছেন শেখ শাহজাহান। তদন্তকারীরা তল্লাশিতে জানতে পেরেছেন, শেখ শাহজাহানের চিংড়ি মাছের ব্যবসার প্রায় ৪০ শতাংশ মাছের যোগান আসতো অন্যের দখল করা ভেরি থেকে। মাত্র ১০ শতাংশ মাছ আসতো তাঁর নিজের ভেরি থেকে। বাকি ৫০ শতাংশ মাছ তিনি কিনতেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।
তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে, মহিদুল মোল্লা শাহজাহান নামে এক মাছ বিক্রেতার নাম। তাঁর সংস্থার নাম শেখ সাবিনা ফিশারিজ। তিনি এই সংস্থার ম্যানেজার। সেই মহিদুলের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে ইডি। তদন্তকারীরা বলছেন, সেই বয়ানেও মিলেছে বিস্ফোরক তথ্য। ২০১৯ সালে শাহজাহান মার্কেটে স্থানীয় চিংড়ি ব্যাবসায়ীদের নিয়ে মিটিং করেন শাহজাহান। সেখানে তাঁদের হুমকি দিয়ে রাখা হয়, তাঁদের সব মাছ শাহজাহানকে বিক্রি করতে হবে।
অভিযোগ, বাইরে বিক্রি করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেয় শাহজাহান।
ভয়ে শাহজাহানের ঠিক করে দেওয়া দামে মাছ বিক্রি করতেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
শাহজাহান ঘনিষ্ট অন্তত ২০ জনের নাম পেয়েছে ইডি। এরা দখল করা ভেরির মালিক পরিচয়ে শাহজাহানকে মাছ বিক্রি করতেন। তাঁদের নিজস্ব কোনও ভেরি ছিল না।
এখানেই শেষ নয়। চক্রের মতো কাজ করত এই প্রক্রিয়া। মাছ বিক্রির টাকা আবার পৌঁছে যেত শাহজাহানের দুই ভাই, উত্তম সর্দার, শিবু হাজরাদের অ্যাকাউন্টে । তাঁরা ছাড়াও শাহজাহানের শাগরেদদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছত। পরে শাহজাহানের নির্দেশে সেই টাকা জমি কিনতে বা অন্য কাজে ব্যবহার করা হত। এরকম একাধিক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে ইডি। মাছ বিক্রির টাকা ঢুকেছে শাহজাহানের সংস্থা শেখ সাবিনা থেকে। কিন্তু সেই ব্যক্তিদের মাছের ব্যবসা বা ভেরি নেই।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, এইভাবেই শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে থেকে টাকা ঢুকেছে আবু সিদ্দিক হাফিজিয়া ট্রাস্টের নামে। এই ট্রাস্টটি শাহজাহানের বাবার নামে। জমি দখলের কালো টাকা সাদা হয়েছে ট্রাস্টের মাধ্যমে। ট্রাস্টের নামে কেনা হয়েছে একের পর এক সম্পত্তি। ইডি নজরে শাহজাহানের বাবার নামে ট্রাস্ট।