
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন বিশ্বস্ত সঙ্গীরা। এবার কি সেই পথেই হাঁটছেন শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)? যদিও মমতার হাত আগেও ছেড়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর দলবদল করেছিলেন মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা শোভন। দিল্লিতে গিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল শোভন-বৈশাখী (Sovan-Baisakhi)। কালীঘাটে আনাগোনা বেড়েছিল। ২০২৫ সালে আবার বৈশাখীকে নিয়ে তৃণমূলে ফেরেন তিনি। দিন কয়েক আগেই যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা করা হয়েছিল, তখন হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন শোভন। দুঃসময়ে তিনিই পাশে ছিলেন। এবার কি মমতার হাত ছাড়তে চলেছেন কাননও? রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই জল্পনার কারণ কী? হঠাৎ কী ঘটল?
সম্প্রতি, একটি রক্তদান শিবিরের অনুষ্ঠানে একমঞ্চে দেখা গিয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়কে। ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তাপস রায়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান শোভন। একসঙ্গে কেকও কাটতেও দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ গল্প করতেও দেখা যায় দুইজনকে। উপস্থিত ছিলেন মিনা দেবী পূরোহিত। এরপর থেকেই শোভনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে শোভন-বৈশাখী কোন পথে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।
মমতার হাত কি সত্যি ছাড়বেন শোভন? এই বিষয়ে টিভি৯ বাংলাকে শোভন বলেন, “এর আগেও তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলাম। যে কোনও কারণেই হোক (সেই কারণ নিয়ে আলোচনা করতে চাই না) আমিও ভারতীয় জনতা পার্টির শরিক হয়েছিলাম। পরবর্তী ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠে এসেছিল আমি সক্রিয় না নিস্ক্রিয়, সেই উত্তর পাওয়ার যদি সুযোগ আসে, তাহলে তার উত্তরও দেব। সেক্ষেত্রে হাত ছেড়ে যাওয়া বা হাত ধরার বা হাত ছেড়ে যাওয়ার কোনও প্রসঙ্গেরই কিন্তু উত্তর দেওয়ার সময় আসেনি।” অর্থাৎ জল্পনা জিইয়ে রাখলেন।
একমঞ্চে তাপস রায়ের সঙ্গে ছবি ভাইরাল প্রসঙ্গে শোভন জানান, এটা শুধুমাত্র একটা সৌজন্যতা। প্রাক্তন মেয়র জানান, তাপস রায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় বহুদিনের। ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভালো ছিল। এখন তিনি রাজ্যের মন্ত্রী। তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো কর্তব্য বলে মনে করছেন তিনি।