
কলকাতা: বড় বদল হতে চলেছে বামেদের ছাত্র-যুব ব্রিগেডে। সূত্রের খবর, এসএফআই থেকে সরতে চলেছেন সৃজন ভট্টাচার্য, প্রতীকউর রহমান। বর্তমানে এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন সৃজন, রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন প্রতীকউর। শীঘ্রই দুই পদে নতুন মুখেদের দেখা মিলতে পারে বলে খবর। তবে কাদের কাঁধে সেই ব্য়াটন তুলে দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনও হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
সূত্রের খবর, নতুনদের জায়গা করে দিতে এর আগেও একাধিকবার মূল সংগঠনের কাছে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন সৃজনরা। কিন্তু, তা নিয়ে আগে কোনও সিদ্ধান্ত দেখা যায়নি। পার্টির তরফে তাঁদের ছাড়তে চাওয়া হয়নি বলেও শোনা গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাবিতে সায় দিয়েছে আলিমুদ্দিন। এখন কোন গণসংগঠনে তাঁদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়ে জল্পনা চললেও চূড়ান্তভাবে কিছু জানা যায়নি। এদিকে সামনেই আবার লোকসভা ভোট। তার আগে এই খবর নিয়ে চাপানউতর শুরু হয়েছে বাম সমর্থকদের মধ্যেও। শোনা যাচ্ছে আসন্ন নির্বাচনে বামেদের তরুণ দুই নেতাকেই গুরু দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সৃজনের ভোটে দাঁড়ানো নিয়েও চড়ছে জল্পনার পারদ। সৃজন, প্রতীকউর, দু’জনকেই এর আগে একুশের বিধানসভা ভোটে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছিল। এদিকে বামফ্রন্ট সরকারের বিদায়ের পর সম্প্রতি এসএফআই প্রথমবার ৮ লক্ষ সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে গোটা রাজ্যে। সেখানে সৃজন, প্রতীকউরদের যাওয়ার পর কারা দায়িত্বে আসেন সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্বে যে সমস্ত এসএফআই নেতারা রয়েছেন তাঁদের মধ্যেই কাউকে সৃজন, প্রতীকূরদের ছাড়া পদে বসানো হতে পারে জল্পনা চলছে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ব্রিগেডে ঝড় তুলেছিল বামেদের যুব ব্রিগেড। সৃজন বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলেছিল দীর্ঘ চর্চা। যৌবনের ব্রিগেড নবীনদের হাতে ব্যাটন যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কর্তারা। আর এবার নজর ছাত্র সমাবেশে। ক্ষমতার পালাবদলের পরে সময় গড়িয়েছে আর উত্তরবঙ্গে শক্তি ক্রমশ কমেছে সিপিআইএমের। সেই উত্তরবঙ্গে ছাত্র সমাবেশে যৌবনের ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখছে তাঁরা। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছেন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব।
আগামী ২২ থেকে ২৪শ জানুয়ারি মালদহে হতে এসএফআইয়ের ৩৮তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্মেলন। ২৪ তারিখে প্রকাশ্য সমাবেশে থাকার কথা রয়েছে প্রতীকউর রহমান, সৃজন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধর, ময়ূখ বিশ্বাসদের। বক্তা হিসাবে থাকার কথা মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীদের। সেখানে নতুন কোনও ঘোষণা হয় কিনা এখন সেটাই দেখার।