
কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা যেত অভিষেকের কাছে। শুক্রবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে মামলার নথি নিতে এসে তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। একাধিক প্রশ্নেও অভিষেককে নিয়ে মুখ খুলতে চাইলেন না তিনি। তবে বললেন, তিনি চান নিয়োগ দুর্নীতিতে দোষীরা শাস্তি পাক। কারা দোষী তা অবশ্য খোলসা করলেন না কালীঘাটের কাকু।
দিন তিনেক আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জামিনে মুক্ত তাপস মণ্ডল দাবি করেছেন, কালীঘাটের কাকুর মাধ্যমে ১৯ কোটি টাকা অভিষেকের কাছে গিয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এদিন একের পর এক প্রশ্ন করা হয় সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। বর্তমানে জামিনে মুক্ত তিনি। এদিন নগর ও দায়রা আদালতে এসেছিলেন। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর কিছুদিনের মধ্যেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। এই মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তাই বিচারপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত নথি এদিন তাঁর হাতে হস্তান্তর করা হল।
আদালতের বাইরে এদিন সাংবাদিকরা সুজয়কৃষ্ণের কাছে জানতে চান, আপনার মাধ্যমে ১৯ কোটি টাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছে বলে অভিযোগ। কী বলবেন? অভিষেক কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে চাইছেন না কেন? কী মনে হয়? সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নেও নিরুত্তর থাকেন সুজয়কৃষ্ণ। হাত নেড়ে বুঝিয়ে দেন, এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন না তিনি। আপনার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা হয়? আপনার ‘সাহেবের’ দায় কি আপনাকে নিতে হল? এই নিয়েও কিছু বলতে চাননি তিনি। হাতজোড় করে এগিয়ে যান।
অবশেষে মুখ খোলেন কালীঘাটের কাকু-
সাংবাদিককা কালীঘাটের কাকুর কাছে জানতে চান, প্রকৃত দোষী কে? আপনি চান প্রকৃত দোষী শাস্তি পাক? প্রথমে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক সম্মতি দিলেন। তখনই তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কারা শাস্তি পান বলে আপনি চান? একমাত্র তখনই মুখ খুললেন কালীঘাটের কাকু। বললেন, “যাঁরা দোষী।” তাঁরা কারা? বললেন, “কী করে বলব আমি।” দায় তো আপনাকে নিতে হল? প্রশ্ন শুনে ফের হাতজোড় করে বললেন, “প্লিজ, নো কমেন্টস।”
আপনি কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আড়াল করছেন? প্রশ্ন শুনে হাতজোড় করে কালীঘাটের কাকু বললেন, “প্লিজ, আমাকে ছাড়ুন না।” এরপরই তিনি বলেন, “চাই, দোষীরা শাস্তি পাক। যারা দোষী, তারা পাবে। আদালত বিচার করবে। আদালতের উপর ছাড়ছি।” এরপর আর কোনও কথা না বলে গাড়িতে উঠে আদালত চত্বর ছেড়ে বাড়ির পথে রওনা দেন কালীঘাটের কাকু।