
কলকাতা: আইনি আবেদনের পরিপেক্ষিতে অবশেষে প্রেসিডেন্সি জেলে প্রথম শ্রেণির বন্দির (ডিভিশন ওয়ান প্রিজনার) মর্যাদা পেলেন সুজিত বসু। তাঁর সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং বর্তমান শারীরিক অসুস্থতার কথা বিচার করেই আদালত ও জেল কর্তৃপক্ষ এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। ব্রিটিশ আমলে মূলত রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য এই বিশেষ মর্যাদার সূচনা হয়েছিল, যা স্বাধীন ভারতেও বন্দির সামাজিক ও শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বজায় রাখা হয়েছে।
গ্রেড-১ বা প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে সুজিত বসু সাধারণ কয়েদিদের তুলনায় বেশ কিছু বাড়তি ও আরামদায়ক সুবিধা পাবেন। জেলের সাধারণ সেলের পরিবর্তে তাঁকে দেওয়া হবে একটি সম্পূর্ণ আলাদা সেল, যার সঙ্গে থাকবে অ্যাটাচড বাথরুমের সুবিধা। এছাড়া সেলে তাঁর জন্য থাকবে আলাদা খাট, টেবিল ফ্যান এবং মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশারির ব্যবস্থা।
সাধারণ বন্দিদের যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পেতে সমস্যা হয়, সেখানে প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে সুজিত বসু টুথপেস্ট ও ব্রাশ ব্যবহারের অনুমতি পাবেন। উল্লেখ্য, সাধারণ কয়েদিরা জেলের নিয়ম অনুযায়ী কেবল গুঁড়ো মাজন পেয়ে থাকেন। সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হল খাবারের ক্ষেত্রে। সুজিত বসুকে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করতে হবে না, দিনে তিনবার তাঁর সেলে সরাসরি খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে, যা কার্যত হোম ডেলিভারির সমতুল্য। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর ডায়েটের দিকেও বিশেষ নজর রাখা হবে বলে জেল সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, এর আগে শান্তনু সিংহ রায়, জয় কামদারের আইনজীবীরাও তাঁদের মক্কেলের জন্য প্রথম শ্রেণির বন্দির আবেদন জানান। কিন্তু এ বিষয়ে লিখত ভাবে আপত্তি জানায় ইডি। উল্লেখ্য, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সুজিত বসু।
কী কী সুবিধা পাবেন সুজিত?