Surendranath Law College: রাতভর ঘেরাওয়ের পর ইস্তফাপত্রে সই, ‘আমাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে’, দাবি সুরেন্দ্রনাথের উপাধ্যক্ষের

Surendranath Law College Protest: প্রায় ২৩ ঘণ্টা ভাইস প্রিন্সিপালকে কলেজের ঘরেই আটকে রাখা হয়। অন্যদিকে, কলেজের বাইরে উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয় স্লোগান। অবশেষে আজ সকালে যখন কলেজ থেকে বেরোলেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম, তখন চারপাশে চোর চোর স্লোগান ওঠে। কলেজ থেকে বেরিয়েই উপাধ্যক্ষ বলেন, "জোর করে আমাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি কোনও ইস্তফা দিইনি।"

Surendranath Law College: রাতভর ঘেরাওয়ের পর ইস্তফাপত্রে সই, আমাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে, দাবি সুরেন্দ্রনাথের উপাধ্যক্ষের
সুরেন্দ্রনাথ ল' কলেজের উপাধ্যক্ষImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Sep 11, 2026 | 4:13 PM

কলকাতা: রাতভর ঘেরাওয়ের পর অবশেষে ইস্তফা দিলেন সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের (Surendranath Law College) উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম। যদিও জোর করে তাঁকে ইস্তফাপত্রে সই করানো হয়েছে দাবি করেছেন তিনি। ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলেও পরীক্ষায় বসার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ছাত্রছাত্রীরা। ভাইস প্রিন্সিপালকে (Surendranath Law College Protest) রাতভর ঘেরাও করে রাখা হয়। টানা ২৩ ঘণ্টাই কলেজেই আটকে ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল। তাঁর ইস্তফার দাবি তোলেন ছাত্রছাত্রীরা। অবশেষে পড়ুয়াদের দাবি মেনেই ইস্তফা দিতে হল উপাধ্যক্ষকে।

সুরেন্দ্রনাথ ল’কলেজে বিক্ষোভ

উপস্থিতির হার নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ। দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার আগে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষোভ চরমে। জানা গিয়েছে, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষায় বসা যাবে না। এরপরই আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের দাবি, তাঁদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হবে। শুক্রবারই পরীক্ষার ফর্ম ফিল-আপের শেষ দিন ছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, উপস্থিতির হার কম থাকায় একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থী সমস্যায় পড়েছেন।

কলেজ থেকে বেরোতেই চোর স্লোগান

প্রায় ২৩ ঘণ্টা ভাইস প্রিন্সিপালকে কলেজের ঘরেই আটকে রাখা হয়। অন্যদিকে, কলেজের বাইরে উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয় স্লোগান। অবশেষে আজ সকালে যখন কলেজ থেকে বেরোলেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম, তখন চারপাশে চোর চোর স্লোগান ওঠে। কলেজ থেকে বেরিয়েই উপাধ্যক্ষ বলেন, “জোর করে আমাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি কোনও ইস্তফা দিইনি।” একইসঙ্গে অভিযোগ তোলেন, একটা অন্ধকার করে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। আলো-পাখা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। মহম্মদি তরনুম বলেন, “দুই দিন ধরে আমাকে আটকে রেখেছে, জল-খাওয়া কিছু দেয়নি। ঘর অন্ধকার করে দিয়েছি। শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, আপনারা তদন্ত করে দেখুন।”

পড়ুয়াদের দাবি নিয়ে এর আগে ভাইস প্রিন্সিপাল জানিয়েছিলেন, তিনি এই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কলেজে পুলিশ ঢুকবে না বলেও জানান তিনি। তবে রাতভর ভাইস প্রিন্সিপালকে ঘেরাও করে নিজেদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীরা। শেষপর্যন্ত ইস্তফাও দিতে হল তাঁকে।

এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী বলেন, “আমি প্রথমেই টিআইসি ম্যাডামকে অ্যাটডেন্সের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে খুব কম অ্যাটেন্ডেন্স দেখেছিলাম। কেন উপস্থিতি কম, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি উনি। তারপর আমরা আলোচনা করে বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ অ্যাটেন্ডেন্স থাকতে হয়। সেটা ৫ শতাংশ ছাড় দিয়ে ৭০ শতাংশ করা যায়। ওঁরা তখন অনুনয় বিনয় করেন। অলিখিতভাবে ঠিক হয় যে যাঁদের ৪০ শতাংশ অ্যাটেনডেন্স আছে, তাঁদের বসতে দেওয়া হবে পরীক্ষায়। কিন্তু এখন দেখছি তো কলেজেরই দোষ। কোনও অ্যাটেনডেন্স রেজিস্টার করা হত না। মুখ দেখে অ্যাটেনডেন্স দেওয়া হত। এই যা পরিস্থিতি বিষয়টাকে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে রেফার করা হোক।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us