
কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিললাপ নিয়ে বিরোধীরা একাধিক মন্তব্য করছেন! কেন ১২ পাতার ফর্ম? তা নিয়ে চর্চা কম নেই। এবার সাংবাদিক বৈঠকে এসে বিস্তারিত বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে বহরমপুর থানার একটি মামলায় এখনও পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে বলে দাবি।
তদন্তে রাকিবুল শেখ, মুস্তাফিজুর রহমান, তুহিনা এবং তারিকুল রহমানের নাম উঠে এসেছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য। লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভুয়ো সুবিধাভোগী ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে SIT গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মানি লন্ডারিংয়ের দিকটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকেছে। সেক্ষেত্রে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা হলে. কত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তার একটা আভাস দিয়েছেন তিনি। আর সেই কারণেই এবার খুব ভাল ভাবে ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে।
১২ পাতার ফর্ম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফর্মে প্র্যাকটিক্যালি তিনটে পৃষ্ঠা ফিল আপ করতে হচ্ছে। বাকিগুলো ট্রাইবুনালে যাঁর নাম রয়েছে, তার একটা পৃষ্ঠা, CAA তে আবেদনকারীর রয়েছে। কাস্টের একটা পৃষ্ঠা রয়েছে। ওগুলোতে কার্যত কিছু নেই। দেখুন সরকার ৩৬ হাজার টাকা বছরে দেবে।” এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আপনি ২০ টাকার ঢেঁড়স কিনতে গেলেও টিপে দেখেন। ৩৬ হাজার টাকা দেবে, সহযোগিতা করুন না! এই সমস্ত তারিকুল , রাকিবুল, মুস্তাফিজুল-এদের মতো লোকেদের তো ২২ টা অ্যাকাউন্ট। এটা তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শুধু জঙ্গিপুর ব্লকের ৩০০০ নাম বার করব।”
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, বুধবার থেকেই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। প্রতি ৭ দিন অন্তর মন্ত্রীা ব্রিফ করবেন। এখনও পর্যন্ত দিনের ২ লক্ষের বেশি আবেদন ভেরিফায়েড হয়ে যাচ্ছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।