
কলকাতা: ওবিসি মামলা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যাবতীয় জটিলতা কাটিয়ে শূন্যপদে নিয়োগ করুক রাজ্য, দাবি তুললেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই রাজ্য সরকার আর কয়েক মাস রয়েছে। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই হিন্দু ওবিসিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্কুল সার্ভিস কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড.. যা যা আছে, শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করে নিয়োগের জটিলতা কাটাক। পুরনো ওবিসি তালিকা, যেটা হাইকোর্ট বাতিল করেছিল, সেটাকে অস্বীকার করে, আরও তিন মাস সময় চেয়েছে রাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। অর্থাৎ এই আমলে আর একটিও নিয়োগ হবে না। শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের জন্য প্রকৃত ওবিসি-দের, মূলত হিন্দু ওবিসি-দের বঞ্চিত করে একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করায় বাংলার ২ কোটিরও বেশি বেকার যুবক যুবতীর সর্বনাশ ঘটানো হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ওবিসি মামলার শুনানি ছিল। সেখানে রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল জানিয়েছেন, ওবিসি-র সংরক্ষণের বিষয়ে নতুন করে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। কারা ওবিসি তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য, তা যাচাই করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো নতুন করে সমীক্ষার কাজ শুরু করা হয়েছে। আর সে কারণেই ওবিসি মামলায় আরও তিন মাস সময় চেয়ে নেয় রাজ্য। শীর্ষ আদালত তা মঞ্জুর করে।
এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “বিজেপি বিধায়ক দল অ্যাডজনমেন্ট মোশন এনেছিল। ওবিসির নামে রাজ্যে যেভাবে চাকরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ওবিসি তালিকা বাতিল বলে রাজ্য সরকারের উকিল কপিল সিব্বল বলেছেন, আমরা রিসার্ভে করব। রিসার্ভে ওরা ১০ তারিখ থেকে করছে, আমাদের কাছে সমস্ত নথি রয়েছে। আমরা নজর রেখেছি।”
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ওবিসি সার্টিফিকেট নিয়ম মেনে দেওয়া হয়নি বলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা হয়। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২০১০ সালের পর থেকে দেওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করা হল। হাই কোর্টের নির্দেশে প্রায় ১২ লক্ষ সার্টিফিকেট অকেজো হয়ে যায়। উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। হাই কোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরও।