
কলকাতা: পতাকা উত্তোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)? একটি ভিডিয়ো ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও, হাত শিবির গোটা বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়েছে। তবে আজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার থেকে ইতিমধ্যেই সোনিয়াকে চিঠি লিখে পাঠানো হয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, “বন্দে-মাতরম জাগরণের মঞ্চ। যে ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে তাতে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনও উপায় কংগ্রেসের নেতাদের কাছে নেই। বন্দে-মাতরম তাঁর সার্ধশত বছর চলছে। বন্দে-মাতরমকে সম্মান দেওয়া হচ্ছে। বন্দেমাতরমকে নিয়ে নির্দিষ্ট আইন আনা হয়েছে। আমি সরকারি স্কুলে বন্দেমাতরম বাধ্যতামূলক করেছি।” এই গানের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি বলেন, “বন্দেমাতরম বিপ্লবীদের সঞ্জীবনী মন্ত্র ছিল। একে অপমান মানে দেশপ্রেম ও সর্বপরি বঙ্কিমচন্দ্রকে অপমান করা। আমি বাংলার ভূমি থেকে তীব্র নিন্দা করছি। ইতিমধ্যে বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের পক্ষ থেকে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছেন।” এরপর রাজ্যের কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসের কোনও ক্ষমতা নেই বিরোধিতা করা। এদের থেকে কিছু আশা করব না। তবে সনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে তাঁদের প্রতিক্রিয়া আশা করব।”
শুভেন্দুর আরও সংযোজন, “সোশ্যাল মিডিয়াতে ওঁর ভিডিয়ো পোস্ট হয়েছে। কীভাবে এত রাগ দেখাচ্ছেন বাপরে বাপ…। কংগ্রেসের চেয়ারপার্সনের সে কী রাগ। পারলে তো মল্লিকার্জুন খাড়গের চাকরি খেয়ে নেয়। সবাই দেখেছে এত রাগ? এই রাগ কেন? মা দুর্গার কথা বলা আছে বলে? সরস্বতীর কথা বলা আছে বলে? সবাই দেখছে…রিয়্যাকশন হবে।”
মূলত, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সনিয়ার অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। তাঁর দাবি পুরো গান গাইতে বাধা দিচ্ছিলেন সনিয়া। তবে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশের দাবি, সোনিয়া গান্ধী ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধা দেননি। বরং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের জন্য একটি চেয়ার আনার কথা বলছিলেন। বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল বলেও দাবি করেছেন তিনি।