
কলকাতা: প্রথমে মিনার, তারপর টুলু। সংবাদ শিরোনামে এখন ঘোরাফেরা করছে এই দু’টো নাম। মূলত মিনারের সূত্র ধরেই টুলু-র খোঁজ পায় পুলিশ। তারপরই উঠে আসে তাঁর পাথর সাম্রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতির কারবার। আবার এমনও অভিযোগ উঠে আসছে, অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ঘনিষ্ঠ ছিলেন টুলু। সেকারণেই খুব দ্রুত ফুলে ফেঁপে উঠেছিল তাঁর ব্যবসা। যদিও, অনুব্রত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন টুলুর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তবে, এই গোটা ঘটনায় বিগত সরকারের দিকেই আঙুল তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করেছেন।
আজ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ…এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়েও জানান। প্রথমেই তিনি রাজ্য পুলিশের প্রশংসা করেন। বলেন, “বাংলার পুলিশ দক্ষ, আরও একবার তা দেখিয়ে দিলেন। পুলিশকে সুযোগ দিলে তাঁরা যে সব র্যাকেট ভাঙতে পারে,আজ সেটা প্রমাণিত। এরাজ্যের পুলিশ কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতো দক্ষ।”
এরপরই সরকারি রাজস্বে ঘাটতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “সরকারি প্রোগ্রামে একাধিকবার রেভিনিউ লিকেজের কথা তুলে ধরেছি। ব়্যাকেট সামনে আসার আগে উদাহরণ দিয়েছিলাম বীরভূমের।বিগত সরকারের সময় যেখানে পাথর থেকে বছরে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রেভিনিউ আসত। সেখানে ১১ মে থেকে ১১ জুন, এই এক মাসে ৮৩ কোটি টাকা একটা জেলা থেকে পেয়েছি।”
শুভেন্দুর অভিযোগ, “বীরভূম থেকেই বছরে পাথরে ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ১৫ বছরে বিপুল টাকার লোকসান হয়েছে রাজ্যে। এই বিপুল টাকা কোথায় গিয়েছে, খুঁজে বের করা হবে। আর তা বাংলা পুলিশই করতে পারবে।”
এরপর টুলু মণ্ডলের কত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “গতকাল মিনারের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ১৫ কেজি সোনাও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকা। মিনার ও তাঁর পরিবারের লোক বলেছে, টুলুরই টাকা ছিল। পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম খুঁজে বের করতে হবে। জানা গিয়েছে, টুলু বিদেশে রয়েছেন। হয়তো রাজ্যে পরিবর্তনের পরই তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন।”
টুলু মণ্ডলের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির হিসেব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যতগুলি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে, তাতে মোট টাকা রয়েছে ৯৩ কোটি টাকা। এই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ় করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো ও ২৩ গ্রাম প্লাটিনাম উদ্ধার হয়েছে। ২১টি সম্পত্তি পেয়েছি।” এছাড়া, টুলুর ৭টা বাড়ি, একটা ফার্ম হাউজ়, একটা পার্কিং, দু’টো ক্রাশার, জমির পরিমাণ ৩০০ বিঘা-সহ একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপরই বিগত সরকারকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ‘সাপোর্ট’ ছাড়া বড় ব়্যাকেট চলত না বলে অভিযোগ তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের সমর্থন ছাড়া হতে পারে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাপোর্ট ছাড়া এটা হতে পারে না। এত বড় ব়্যাকেট এতদিন ধরে চলছে। সবাই এর মধ্যে যুক্ত রয়েছে। এটা তো একদিনের একটা ঘটনা নয়। সরকারের তো একটা দায়িত্ব রয়েছে। ঘটনা তো আমার আমলেও ঘটছে। কিন্তু, তার দায় তো আমার নয়। তবে, ঘটনার পর যে পদক্ষেপ গুলি করা হচ্ছে সরকারের তরফে, সেটাই দেখুন। ভুল থাকলে সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। ২৪৩টি গাড়ি তো আর একদিনে কেনা যায় না। ৩০০ বিঘা জমি, ফার্ম হাউজ়, ৭টা বাড়ি তো আর একদিনে করা যায় না। পাঁচ-সাত বছর ধরে তো হয়েছে। যাঁরা সরকারের ছিলেন, এতে রেজিস্ট্রি অফিস যুক্ত রয়েছে, মোটর ভেহিকেলস যুক্ত রয়েছে, লোকাল পুলিশ যুক্ত রয়েছে…।” মুখ্যমন্ত্রী দাবি, উপর থেকে নির্দেশ না গেলে এটা হয় না। সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছিল।