
কলকাতা: মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের বাবা-ছেলেকে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল জঙ্গিপুর আদালত। কিন্তু এই রায় মেনে নিতে পারছেন না নিহত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী তথা চন্দন দাসের মা। তিনি দোষীদের ফাঁসির সাজা চাইছেন। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। কেন এই মামলায় ফাঁসির সাজা হল না, তার কারণ ব্যাখ্যা করলেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর বক্তব্য, আসলে দোষী ১৩ জনকে সমানভাবে চার্জশিটে অভিযুক্ত দেখিয়েছি সিট। যেখানে মূলত ৩ জনকে আলাদা করে চিহ্নিত করে দিয়েছিল পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। শুভেন্দুর দাবি, ওই তিন জনই প্রথম বাবা-ছেলেকে সেদিন কোপাতে শুরু করেছিল। পরে বাকিরাও হাত লাগায়। শুভেন্দুর কথায়, “চার্জশিটে ১৩ জনকে সমান দোষে দুষ্ট করেছে পুলিশ। অথচ পরিবার-সহ প্রত্যক্ষদর্শীরা ৩ জনকে চিহ্নিত করে দেন, যারা প্রথম এই হত্যালীলা চালিয়েছিল। এই ৩ জনই প্রথম কোপানোর কাজ শুরু করেছিল। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অনেক আগে থেকেই এই পরিবারকে টার্গেট করেছিল। বাকিরা সহযোগিতা করেছে। চার্জশিটে সবাইকে সমান দোষী দেখানোর উদ্দেশ্য একটাই, যাতে ফাঁসির সাজা না হয়।”
জঙ্গিপুর আদালতের বিচারক অমিতাভ চট্টোপাধ্যায় এই মামলায় দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব, ইনজামামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ, মনিরুল শেখ, ইকবাল শেখ, নুরুল শেখ, সাবা করিম, হাজরত শেখ, আকবর আলি, ইউসুফ শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। সঙ্গে নিহতের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও বলেছেন শুভেন্দু। আর আইনি লড়াইয়ে পরিবারকে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ”
পরিবার উচ্চ আদালতে যাবে। হাইকোর্টে সুপ্রিম কোর্টের যে আইনজীবীদের প্রয়োজন, তাঁদের দিয়েই আইনি লড়াই লড়ব।” ইতিমধ্যেই অনেক আইনজীবী এই মামলা লড়তে চেয়ে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন বলে শুভেন্দু দাবি করেন।
কেন ফাঁসির সাজা হল না, সেক্ষেত্রে এই মামলার সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যারা দোষী, তাদের প্রত্যেকেরই বয়স কম। বাড়িতে চার পাঁচ জন রয়েছে। বাচ্চা রয়েছে। আমার উল্টোদিকের আইনজীবী এগুলো তুলে ধরেছেন। হয়তো এগুলোকে কনসিডারেশন হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। আমি ভিক্টিম ও আর এই ঘটনার প্রভাব যে সমাজেও রয়েছে, সেটা বিস্তারিত আদালতে বোঝাই। তবে সুপ্রিম কোর্ট ডেথ সেনটেন্স দিতে বারণ করছে। সেই পরামর্শ তো সবসময়ই বিচারক, বিচারপতিদের মাথায় থাকে।”