
কলকাতা: সদ্য ঘটে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি এবং পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে দায়ী বলে বিস্ফোরক কলকাতা পৌরসভার মেয়র পারিষদ সদস্য তথা তৃণমূলের প্রথম দিনের সৈনিক তারক সিংয়ের। গত এক সপ্তাহে দু’বার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কলকাতা পৌরসভার কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হয়। দু’টিতেই অনুপস্থিত ছিলেন তারক সিং। অনুপস্থিত ছিলেন পুরসভার অধিবেশন বিতর্কের দিনও।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, তিনি ইচ্ছে করেই এই ধরনের ঠান্ডা ঘরে হওয়া বৈঠকগুলিতে যাচ্ছেন না। নির্বাচনের পর দলের ছেলেরা ঘর ছাড়া। বেহালার বিভিন্ন অংশে দুষ্কৃতীদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। অথচ তৃণমূল নেত্রী-সহ নেতৃত্ব সেইসব কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে কালীঘাটে ঠান্ডা করে বসে একের পর এক বৈঠক করে চলেছে।
লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৪২ জন সাংসদ রয়েছে। কিন্তু তাঁরা সব সংবাদমাধ্যমে মুখ দেখাতে ব্যস্ত। কর্মী বা সমর্থকদের নিরাপত্তা দিতে তাঁদের কেউ এগিয়ে আসছেন না। তারক সিংয়ের কথায়, “যারা আমাদের প্রোটেকশন দিতে পারছে না, নিজেদের প্রটেকশন যদি নিজেদেরই নিতে হয়, তাহলে ওই মিটিংয়ে গিয়ে কী হবে! তাই যাই নি।”
তাঁর বক্তব্য, “কর্মী এবং সমর্থকদের কোনভাবেই সুরক্ষা দিচ্ছে না দলীয় নেতৃত্ব। যে কারণে ওই ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানের বাণী শোনার তাঁর কোন সদিচ্ছা নেই।” রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতার সম্বন্ধে চট্টোপাধ্যায়কে বলেছিলেন, কারা কারা ঘরছাড়া, তার একটি তালিকা তৈরি করে পুলিশকে দিতে।
কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা তালিকা নেতৃত্ব দিতে পারিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ববোধ সম্পন্ন হিসেবে নিজের মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আমার দল এবং নেত্রী ও নেতৃত্ব শুধু ঠান্ডা ঘরে বসে বৈঠক করতেই ব্যস্ত। আদতে কিছুই করছেন না নেতৃত্ব।
শুধু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, কলকাতা পুরসভার এই মেয়র পরিষদ সদস্যের কাঠগড়ায় খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমও।
বললেন, দু’দিন আগে অধিবেশনের নামে কলকাতা পুরসভায় যা হয়েছে, তাতে দলের মুখ আরও পুড়েছে। দিন দিন দল মানুষের কাছে হাস্যকর হয়ে উঠছে।
যে অধিবেশন কাউন্সিলার ক্লাবরুমে হয়েছে, তা কখনোই গ্রাহ্য হবে না। কারণ তা অবৈধ। অথচ মেয়র অন্তত একবারের জন্যও প্রত্যেক মেয়র পরিষদ সদস্যকে নিয়ে বৈঠকে বসতে পারত। কিন্তু তা হয়নি।
নির্বাচনে পর্যদুস্ত হওয়ার পর ইতিমধ্যেই তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা আইপ্যাক এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন। তারক সিং অবশ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বর্তমানে নেতা হয়ে উঠেছেন, তার পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার সব থেকে বেশি বলে তাঁর দাবি।
কলকাতা পুরসভার এই মেয়র পরিষদ সদস্য দাবি করেন, দিনের পর দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের মত করে দলকে চালানোর চেষ্টা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন সময় আটকানোর চেষ্টা করেনি। সবাই ফলতার জাহাঙ্গির খান বা পুষ্পার বাড়বাড়ন্ত হওয়ার কথা দল আগে থেকেই জানত। তাঁর প্রশ্ন, “এদের এত প্রভাব তৈরি করার পেছনে কে? কেন চোখ বন্ধ করে থেকেছে দিনের পর দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? যার জেরেই দলের এই হাল।”