
কলকাতা: ব্রেস ব্রিজের ডিপোর কাছে তারাতলার অভিশপ্ত গোডাউন। ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সির আনোয়ার খানের এলাকায় দেড় বছর ধরে গোডাউনটি নির্মীত হচ্ছিল। অভিযোগ, নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে দুর্বল ভিতে তৈরি হচ্ছিল গোডাউনটি। লোহার বিমের কাঠামোর ওপর কংক্রিটের ঢালাই করতে গিয়েই বিপর্যয়। রাকেশ সিংয়ের কটাক্ষ, “তৃণমূলের পাপটা আমাদের ভুগতে হচ্ছে।”
রাকেশ সিং বলেন, “আমি তো নিজে হাতে ৬ জনের দেহ বার করেছি। ওর কী ব্যবসা জানি না, ওর নাম প্রথম শুনলাম। যে মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা দেখলেই বুঝতে পারবেন। আসলে তৃণমূলের পাপটা আমাদের ভুগতে হচ্ছে। আমরা ৪ ঘণ্টা আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। তখন পুলিশও পৌঁছয়নি। যাঁর আওয়াজ শুনছি, তাঁকে টেনে বার করছি। ঢালাই হাত দিয়ে টানলেই বেরিয়ে যাচ্ছে।”
এই জমিটি পোর্ট ট্রাস্টের ছিল। শম্ভনাথ বেহেরা মেসার্স বেহারা ব্রাদার্সের তরফে জমি লিজ নেয়। ৩০ বছরের জন্য ৬,৬৯৮ বর্গমিটার এলাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে নেওয়া হয় লিজ। ওই জমিতে গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ বানানোর পরিকল্পনা ছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ১ অগস্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মেসার্স বেহেরা ব্রাদার্সের চুক্তি হয়। এরপর অয়ন ট্রেডার্সকে দেওয়া হয় নির্মাণের দায়িত্ব। জানা যাচ্ছে, ৬ বার ওই জমির ওপর গোডাউন নির্মাণের চেষ্টা হয়েছে। ফলে মাটি নরম হয়ে যায়। ভিত মজবুত না হওয়াতেই ভেঙে পড়ে গোডাউন। পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিন দুর্ঘটনার পর কাউন্সিলর আনোয়ার পৌঁছলেই তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হয়। এদিকে, অয়ন ট্রেডার্স নামক সংস্থার কারোর সঙ্গেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে রয়েছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।