
কলকাতা: বামেদের আমলে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তৃণমূল (TMC) জমানাতেও তাঁকে ফেরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে, তাঁর কলমে ছিল ফিরে আসার বার্তা। নিজের প্রিয় শহর ছাড়ার আগে লিখেছিলেন যদি মানুষ হয়ে না পারি, পাখি হয়েও ফিরব একদিন’। তিনি ফিরলেন। প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় পা দিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।
রাজ্যে পালাবদলের পর তসলিমাকে (Taslima Nasrin returns Kolkata) কলকাতায় ফেরানোর উদ্যোগ নেয় বিজেপি সরকার। গত ১৭ মার্চ সংসদে জিরো আওয়ারে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “তসলিমা কলকাতাকে ভালবাসেন। তিনি কলকাতায় থাকতে চান, বাংলায় কথা বলতে চান, বাংলায় কবিতা লিখতে চান।” উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে তাঁকে ফেরানোর দাবি করেন। এরপরই জানা যায়, ৩১ জুলাই কলকাতায় পা রাখবেন তসলিমা।
আজ সেই ৩১ জুলাই। প্রায় ১৯ বছর পর নিজের প্রিয় শহরে ফেরার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তসলিমা। লেখেন, “আজি এ প্রভাতে কলকাতার অভিমুখে যাত্রা শুরু করিলাম।” ঘড়িতে তখন প্রায় ১২টা বা সাড়ে ১২টা। লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বেরোচ্ছেন লেখিকা। মুখে চওড়া বা তৃপ্তির হাসি বলা যেতে পারে। তাঁকে শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয়। কলকাতায় পা দিয়ে তসলিমা বলেন, “খুবই ভালো লাগছে। সবাইকে ধন্যবাদ।”
আগামিকাল রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ অনুষ্ঠান। প্রকাশিত হবে তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনী সমগ্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তসলিমার প্রত্যাবর্তন নিয়ে সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “খুবই ভালো লাগছে। দেখা হলে আরও ভালো লাগবে।”
উল্লেখ্য, বই নিয়ে বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে। একসময় কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে তাঁর দ্বিখণ্ডিত বই নিয়ে বিতর্কের মুখে কলকাতাও ছাড়তে হয় তাঁকে। দিল্লিতেই থাকছিলেন তিনি। গত বছরের জুলাইয়ে ভারতে থাকার রেসিডেন্স পারমিট শেষ হয়ে যায় তসলিমার। পরে মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে তসলিমা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হন। সেই দাবি মেনে রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে তাঁকে কলকাতা ফেরানোর দাবি জানিয়ে সংসদে সওয়াল করেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তারপর তাঁকে চিঠি দিয়ে বিদেশমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছিলেন, ভারতের যে কোনও জায়গায় যেতে পারেন তসলিমা। অর্থাৎ চাইলে তিনি পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারেন।