
কলকাতা: সাউথ পয়েন্ট স্কুলের পরীক্ষার প্রশ্নে তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। গত মাসেই কলকাতায় এসেছিলেন সাহিত্যিক। ২০ বছর পর শহরে পা দিয়ে রবীন্দ্র সদনের (Rabindra Sadan) অনুষ্ঠান থেকে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। যেখানে নির্বাসনের যন্ত্রণাকে, দীর্ঘদিন কলকাতা থেকে দূরে থাকার আক্ষেপের কথা তুলে ধরেছিলেন। তসলিমার সেই বক্তব্যই এবার স্কুলের বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দেখা গেল। TV9 বাংলা মারফত সেই খবর পৌঁছে যায় লেখিকার কাছে। গোটা বিষয়টা নিয়ে আপ্লুত লেখিকা। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিষয়টিকে ‘মজার কাণ্ড’ বলে তুলে ধরেন তিনি।
জানা গিয়েছে, সাউথ পয়েন্টের মিড টার্ম পরীক্ষায় বাংলা প্রশ্নপত্রে ঠাঁই পেয়েছে তসলিমার বক্তব্য। প্রশ্নপত্রের আনসিন বিভাগে তসলিমার বক্তব্যের একটা অংশ তুলে ধরা হয়েছে। টিভি৯ বাংলাকে জানিয়েছেন, এত বছর পর কলকাতায় ফিরে তাঁর বক্তব্য কোনও একটি পরীক্ষার অংশ হচ্ছে, তা শুনে খুবই খুশি। খুব শীঘ্রই তিনি আবার কলকাতায় আসছেন। আগামি ৭ অক্টোবর ফের বাংলায় আসবেন বলে জানিয়েছেন তসলিমা।
বাংলার প্রশ্নপত্রে তাঁর বক্তব্যের একটা অংশ যে ঠাঁই পেয়েছে, এই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তুলে ধরেন। লেখেন,”মজার কাণ্ড!এতদিন শুনেছি আমাকে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে, শহর থেকে বের করে দিতে হবে, আমার বই নিষিদ্ধ করতে হবে, আমার লেখা পড়া যাবে না। এবার দেখি আমি দিব্যি দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ঢুকে পড়েছি! (প্রশ্নপত্রে পুরো ভাষণ নয়, ভাষণের একটি ছোট অংশ নেওয়া হয়েছে। )সবচেয়ে মজার ব্যাপার, যে কলকাতা থেকে আমাকে একদিন চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই কলকাতায় আমার ফিরে আসার কথাই আজ পরীক্ষার গদ্যাংশ। জীবন মাঝে মাঝে বেশ রসিক।” এরপরই তসলিমার মন্তব্য,”মানুষকে নির্বাসিত করা যায়, লেখাকে বোধহয় অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না।”
রবীন্দ্র সদনে নিজের বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আক্ষেপের সুরে তসলিমা বলেছিলেন “কলকাতায় ফিরেছি, একথা বলতেই দুই দশক লেগে গেল। একজন লেখককে নিজের ভাষার শহরে আসতে পুলিশের সাহায্যের প্রয়োজনটাই বেদনার।…কোনও রাজনৈতিক দলের কথা বলতে আসিনি। বাক স্বাধীনতার কথা বলতে এসেছি। আমি কলকাতায় এসেছি ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলতে। ভয় চিরস্থায়ী নয়, নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী নয়। বন্ধ দরজা চিরকাল বন্ধ থাকে না। অগস্ট আমার জন্মের মাস, নির্বাসনের মাস, আজ থেকে অগস্ট প্রত্যাবর্তনের মাস।”