
কলকাতা: ভোট এখনও বাকি। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুর দিকেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যে শুরু হয়ে গেল অন্য খেলা। আক্ষরিক অর্থেই খেলা হবে এবার। একদিকে তৃণমূলের স্বামী বিবেকানন্দ কাপ, অন্যদিকে, বিজেপির নরেন্দ্র কাপ। সেপ্টেম্বরেই দুই দলের খেলার সূচনা হতে চলেছে। ১১ সেপ্টেম্বর নরেন্দ্র কাপের উদ্বোধন রয়েছে, আর এই একই দিনে শুরু হচ্ছে তৃণমূলের ঘোষিত ফুটবল টুর্নামেন্টও।
বিজেপির উপলক্ষ হল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন। তার আগেই উদ্বোধন হচ্ছে নরেন্দ্র কাপের। এই ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রাথমিকভাবে জেলা স্তরে হচ্ছে।
বিজেপি নেতা তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এই প্রতিযোগিতার জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়ক। তিনি বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, এই প্রথমবার এমন একটি টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। তিনি জানিয়েছেন, মোট ৪৩টি ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে। ১৩০০টি ফুটবল টিম এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিজয়ী দলকে দেওয়া হবে, ৫০, ০০০ টাকা। এছাড়া রানার্স পাবে ২৫,০০০ টাকা ও সেমিফাইনালিস্টদ্বয় পাবে ১৫,০০০ টাকা করে। এদিন এই খেলার থিম সং-এরও উদ্বোধন হয়।
মনে করা হচ্ছে, বিজেপি ভোটের মুখে তরুণ প্রজন্মকে এক করতেই এই খেলার উদ্যোগ নিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে জনসংযোগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সব দল। তাই এই খেলা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের স্বামী বিবেকানন্দ কাপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। রাজ্যের শাসক দলের জন্য উপলক্ষ হল স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা। ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোতে ধর্মীয় সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের সেই বক্তৃতা আজও অবিস্মরণীয়। তারই ১৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আগেই জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় রাজ্যের ২৩টা জেলা অংশ নেবে। প্রতি জেলা থেকে ৮টা করে দল খেলবে। প্রথমে জেলাভিত্তিক প্রতিযোগিতা হবে। সেখান থেকে প্রতি জেলার সেরা দুই দল আন্তঃজেলা স্তরে খেলবে। প্রতিযোগিতা চলবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। মোট ৩৯০টা ম্যাচ হবে। রাজনৈতিক মঞ্চের প্রতিযোগিতার আগে এই খেলা যেন এক অন্য প্রতিযোগিতা।