
কলকাতা: বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহাকে (Sandipan Saha) বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। জানা গিয়েছে, দলের বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন দুই বিধায়ক। কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিক বৈঠক করে এমন দাবি করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এরপরই দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রস।
পালা বদলের পর কখনও বোর্ড ভেঙে যাচ্ছে. কখনও কাউন্সিলররা পদত্যাগ করছেন। একের পর এক ঘটনা তৃণমূল অন্দরে অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল। এদিকে, গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে মাত্র ২০ জন বিধায়কের উপস্থিতি অস্বস্তি আরও বাড়ায়। এরই মধ্যে আজ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। আর সেই দুই বিধায়কের নাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা।
শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক এই ঘোষণার পরই সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কারের চিঠি পাঠায় তৃণমূল কংগ্রেস। চিঠিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে বারবার অনুপস্থিত থেকেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে দলবিরোধী কাজও করেছেন। তাই তাঁদের বহিষ্কার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে দলের বৈঠকে বিদ্রোহ মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা। সঙ্গে কুণাল ঘোষও একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। দলের অন্দরে খোলা মনে কথা বলতে দেওয়া হোক, সেরকমই দাবি করেছিলেন তিন বিধায়ক। পরে তাঁদের নিয়ে আলাদা করে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন। অভাব-অভিযোগও শোনেন। পরে তৃণমূলের তরফে পোস্ট করে জানানো হয়, দলের অন্দরে সকলের কথা বলার অধিকার রয়েছে।
এদিকে, বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘরের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু তাই নয়, দিল্লিতেও শুভেন্দুর সঙ্গে হাসিমুখে কথাবার্তাও বলতে দেখা গিয়েছিল। সেই থেকেই জল্পনা বাড়ছিল। যদিও সৌজন্য সাক্ষাত বলে দাবি করেছিলেন ঋতব্রত।