
হুগলি: পালা বদল হওয়ার পরই তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলের একাংশ নেতা-নেত্রী। কেউ-কেউ দল ছেড়েছেন। কেউ-কেউ আবার দলে থেকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এই আবহের মধ্যেই এবার হুগলিতে বড় ঘটনা। হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য তথা বলাগড়ের যুব নেত্রী রুনা খাতুন ছাড়লেন তৃণমূল। ‘পথই পথ দেখাবে…রাজনীতি করেই মানুষের পাশে থাকতে হবে এমন ব্যাপার নেই’ এই জাতীয় তত্ত্ব কথা আওড়ে দল ছাড়লেন তিনি। তবে, তৃণমূলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দেওয়ায় নিতান্তই কটাক্ষের মুখে নেত্রী।
কয়েক মাস আগে চর্চায় এসেছিলেন রুনা খাতুন। বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর সঙ্গে ঝামেলায় জরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। মনোরঞ্জন-রুনার গন্ডগোল এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ময়দানে নামতে হয়। সেই রুনাই এবার ছাড়লেন দল।
রুনা খাতুনের রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ
তিনবারের হুগলি জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য এই রুনা। কলেজে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু কেরিয়ার। বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন। রাজ্যের যুব নেত্রীও ছিলেন। ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। ভালো বক্তা,জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়ার দাবিদার ছিলেন। বিধায়কের টিকিটও পেতে পারতেন। তবে সেসব কিছু হয়নি।
তখনই ঘনিষ্ঠ মহলে রুনা জানিয়েছিলেন দল তাঁকে যোগ্য মর্যাদা দেয়নি। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে কখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। এবার দলের বিপর্যয়ে তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
রুনা বলেন, “মানুষের রায়কে মানতে হবে। সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের কাজের জন্য পরিসর দেওয়া উচিত। উন্নয়ন হোক। মানুষের ইচ্ছা পূরণ হওয়া উচিত। মানুষের কাজ করতে গেলে রাজনীতি করতেই হবে তার মানে নেই। হয়ত রাজনীতি একটা প্লাটফর্ম অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর। তবে সেটাই একমাত্র নয়।
তৃণমূল কংগ্রেস দল যেটা এতদিন করতাম তার সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আগামী দিন নিয়ে সেই ভাবে কিছু ভাবিনি। পথই পথ দেখাবে।”